বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বইয়ের জুহুতে ১৮ অক্টোবর বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর তদন্তে একটি সম্ভাব্য অপরাধচক্রের সন্ধান মিলেছে। অভিযোগ, এই চক্রে রয়েছেন আমেরিকায় বসে নির্দেশ দেওয়া এক ব্যক্তি; পঞ্জাব থেকে মুম্বইয়ে অস্ত্র আনা হয়েছিল, অভিনেতার গতিবিধির উপরে নজর রাখা হয়েছিল এবং হামলার পরে গুজরাত হয়ে পালানোর বিস্তৃত পরিকল্পনাও ছিল।

হামলা চালানোর অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে পরের দিন রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার এক দিন পরে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আরও চার জনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ ও পরিবহণ এবং সন্দেহভাজন মূলচক্রী অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে সমন্বয় রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, পণ্ডিত একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে গোটা অভিযানের সমন্বয় করছিলেন। প্রস্তুতিতে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে ওই অ্যাপেই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।

পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার আগে প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা ও নজরদারি চলে। এই সময়ে আততায়ীরা শ্রফের চলাফেরা, বিশেষত রবিবার জুহুর পুষ্পা নারসি ফুটবল মাঠে তাঁর যাতায়াতের উপরে নজর রাখছিল।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, গুলি চালানোর এক সপ্তাহ আগে, ১১ অক্টোবরই প্রথমে হামলার পরিকল্পনা ছিল। ওই দিন সন্দেহভাজনদের ফুটবল মাঠের কাছে থাকার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনকলের রেকর্ডে পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। কিন্তু শ্রফ সেখানে না আসায় পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।

হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে কোটায় ধরা পড়া তিন সন্দেহভাজনের অন্যতম হৃতিক কুমার ওরফে রোশন ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় ২৫ হাজার টাকায় একটি পালসার মোটরসাইকেল কিনেছিলেন।

মোটরসাইকেলটি কয়েক বার হাতবদল হলেও মালিকানার নথি বদল করা হয়নি। পরে তদন্তকারীরা যোগেশ্বরীর এক বাসিন্দা এবং তাঁর পরে মোটরসাইকেলটি কেনা আরও দু’জনের সূত্র ধরে সেটির মালিকানার ইতিহাস খুঁজে পান।

২০ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও চার অভিযুক্তকে ঘিরে অস্ত্র সংগ্রহ ও পৌঁছে দেওয়ার অভিযানের বিবরণ দেওয়া হয়।

স্পেশাল সেলের বক্তব্য অনুযায়ী, হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা, ২১ বছরের কুণাল সম্প্রতি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। হরসানা গ্রামের এক বন্ধুর মাধ্যমে অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

কুণাল একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপে পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁর নির্দেশেই একটি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করতে অমৃতসরে যান কুণাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সোনিপতেরই আর এক বাসিন্দা, ১৯ বছরের সুমিত।

পুলিশের দাবি, পরে কুণাল ২৩ বছরের রাধাকে অস্ত্রটি নিয়ে মুম্বই যেতে রাজি করান। প্রায় দু’মাস আগে রাধার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

১৫ অক্টোবর কুণাল রাধা এবং ২৩ বছরের আর এক মহিলা, ববিতাকে নিয়ে নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে যান। অভিযোগ, রাধার ব্যাগে পিস্তলটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

দুই মহিলার যাত্রাপথে কুণাল এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাঁর নির্দেশ তাঁদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন।

১৭ অক্টোবর দুই মহিলা দাদর রেলস্টেশনে পৌঁছে একটি হোটেলে ওঠেন। সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ হোটেলের কাছে রাধার কাছ থেকে অস্ত্র রাখা ব্যাগটি এক নাবালক সংগ্রহ করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

এর পরে আগ্নেয়াস্ত্রটি কী ভাবে হামলাকারীদের হাতে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ তিন সন্দেহভাজন হামলাকারী পুষ্পা নারসি ফুটবল মাঠে পৌঁছয়। শ্রফের খেলা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল তারা।

সিসিটিভি ফুটেজে তাদের বারবার প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে অভিনেতা সেখানে আছেন কি না, তা দেখতে দেখা গিয়েছে বলে খবর।

সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়িটি মাঠ থেকে বেরোনোর সময়ে দুই বন্দুকবাজ গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তৃতীয় সঙ্গী কাছেই মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিল।

মুম্বই পুলিশের ডিসিপি (ডিটেকশন) রাজ তিলক রোশন জানিয়েছেন, হামলাকারীরা গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার সময়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বিকল হয়ে গিয়েছিল বলেও কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, শ্রফের বুকে ও ডান হাতে আঘাত লাগে। তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস ইব্রাহিম বালোচের বাঁ কবজিতে গুলি লাগে এবং ডান হাতের অনামিকা আঙুলের হাড় ভেঙে যায়। হামলায় এক পথচারীও আহত হন।

গুলি চালানোর পরে আততায়ীরা মোটরসাইকেলে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের দিকে পালায়। সেখানে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যায় তারা।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার পরে পণ্ডিত কুণালের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, বন্দুকবাজেরা মুম্বইয়ে আটকে পড়েছে। অভিযোগ, তাদের পালানোর ব্যবস্থা করতে কুণালকে নির্দেশ দেন তিনি।

তবে সন্দেহভাজনেরা শেষ পর্যন্ত যে পথে পালিয়েছিল, সেই ব্যবস্থা করতে কুণাল সরাসরি সাহায্য করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

সেই দিনই রাধা ও ববিতা দাদর-হরিদ্বার এক্সপ্রেসে মুম্বই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেল ফেলে রেখে তিন সন্দেহভাজন হামলাকারী বোরিভলির দিকে যাওয়ার একটি লোকাল ট্রেনে ওঠে।

এর পরে গুজরাতের সুরাতে যাওয়ার জন্য অ্যাপের মাধ্যমে একটি ক্যাবের ব্যবস্থা করে তারা। যানবাহন বদল করে এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে পুলিশের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

খবর অনুযায়ী, ক্যাবচালক সন্দেহভাজনদের সুরাতের বাসস্ট্যান্ডের কাছে নামিয়ে দেন। সেখানে কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করার পরে তারা ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সুরাত রেলস্টেশনে পৌঁছে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে ওঠে।

কোটা পুলিশের বক্তব্য, সন্দেহভাজনদের দিল্লির দিকে যাওয়ার এবং শেষ পর্যন্ত নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে যখন সন্দেহভাজনদের একজন বোরিভলি রেলস্টেশনের কাছে অল্প সময়ের জন্য নিজের মোবাইল ফোন চালু করে। সুরাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বুক করা ক্যাবের চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই ফোনটি চালু করা হয়েছিল।

তদন্তকারী অফিসারদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সাহায্যে পুলিশ আগেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেছিল। তাদের একজনের সঙ্গে যুক্ত একটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু হামলার পর থেকে ফোনটি বন্ধ ছিল।

বুক করা ক্যাবের চালক তাদের খুঁজে না পাওয়ায় সন্দেহভাজনদের একজন তাঁকে ফোন করে নিজেদের অবস্থান জানায় বলে অভিযোগ। তার পরেই আবার ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও ওই কল থেকেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান।

খবর অনুযায়ী, পুলিশ ক্যাবচালকের সন্ধান পায়। তিনি নিশ্চিত করেন, বোরিভলি থেকে তিন যাত্রীকে সুরাতে নিয়ে গিয়ে বাসস্ট্যান্ডের কাছে নামিয়ে দিয়েছিলেন।

এর পরে তদন্তকারীরা যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার জায়গার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সেই সূত্র ধরে সুরাত রেলস্টেশন পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের যাত্রাপথ চিহ্নিত করা হয়।

আরও নজরদারির মাধ্যমে তারা কোন ট্রেনে এবং কোন কামরায় উঠেছিল, তা জানা যায়। মুম্বই পুলিশ তখন রাজস্থানের পুলিশকে সতর্ক করে। সন্দেহভাজনদের চেহারার বিবরণ এবং কোটায় তাদের সম্ভাব্য পৌঁছনোর সময় জানানো হয়।

খবর অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর সকালে ডিসিপি রোশন কোটা পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজনেরা পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে যাচ্ছে।

ট্রেনটির সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কোটায় পৌঁছনোর কথা ছিল। সেই অনুযায়ী রাজস্থান পুলিশ কোটা সিটি পুলিশ, অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স এবং রেলের নিরাপত্তা বিভাগের দলগুলিকে অভিযানে নামায়।

প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন থেকে বেরোনোর পথগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ট্রেন পৌঁছলে পুলিশ কামরাগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে ধরে। গোটা অভিযান প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল বলে খবর।

ধৃতদের পরিচয় দেওয়া হয়—হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা, ১৮ বছরের ফুল সিংহ ও ১৮ বছরের রেহান ওরফে সুক্কা এবং ২২ বছরের হৃতিক কুমার ওরফে রোশন। হৃতিকের আদি বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে, তবে তিনি আন্ধেরি পশ্চিমে থাকতেন।

এক সন্দেহভাজন প্রথমে এমন একটি জন্মতারিখ দিয়েছিল, যাতে মনে হচ্ছিল তার বয়স তখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তবে ডিসিপি রোশন স্পষ্ট করে জানান, তিন অভিযুক্তের কেউই নাবালক নন।

দু’জনের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় জন হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে সন্দেহ। গ্রেফতারের সময়ে তাঁদের কাছ থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

তিন জনকে কোটায় এক বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। মুম্বই পুলিশকে তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড দেওয়া হয়। এমবিএস হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরে তাঁদের মুম্বই পুলিশের দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

২০ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আরও চার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। হামলার পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও যাতায়াতের ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের যোগ ছিল বলে অভিযোগ।

তাঁরা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা, ২১ বছরের কুণাল ও ১৯ বছরের সুমিত; উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা, ২৩ বছরের রাধা এবং আজমগড়ের বাসিন্দা, ২৩ বছরের ববিতা।

স্পেশাল সেলের বক্তব্য অনুযায়ী, রাধা ও ববিতাকে নয়াদিল্লি রেলস্টেশন থেকে আটক করা হয়। কুণাল ও সুমিতের সন্ধান মেলে সোনিপতে।

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল চার জনকে আদালতে হাজির করে।

পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের সিআইডি-র আধিকারিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মুম্বই পুলিশের দলকে তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড দেয়।

এই গ্রেফতারগুলির ফলে তদন্তের পরিধি সন্দেহভাজন বন্দুকবাজদের ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। অস্ত্র সংগ্রহ, মুম্বইয়ে তা পৌঁছে দেওয়া এবং এক নির্দেশদাতার কথায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাজ করার অভিযোগও এখন তদন্তের আওতায় এসেছে।

অনিল পণ্ডিতের কথিত ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে আমেরিকায় থাকা এক দুষ্কৃতী বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের মাধ্যমে তিনিই অভিযান পরিচালনা করছিলেন বলে সন্দেহ।

কোটা পুলিশের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর জন্য পণ্ডিত রেহানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ। এর পরে রেহান সোনিপত থেকে আরও একজনকে এই কাজে যুক্ত করে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্তেও কথিত অস্ত্র সংগ্রহ অভিযানের কেন্দ্রে পণ্ডিতের নাম উঠে এসেছে। কুণালের বিরুদ্ধে তাঁর নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর হয়ে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করা একটি অডিয়ো বার্তা এবং সমাজমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টও সামনে এসেছে। তবে পুলিশ স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করেনি। হামলায় ওই গোষ্ঠীর যোগও নিশ্চিত করা হয়নি।

মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের তোলাবাজি দমন শাখা মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা এখন কার নির্দেশে কে কাজ করেছে, তার সম্পূর্ণ যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। পাশাপাশি অস্ত্রগুলির সন্ধান, আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা এবং হামলার উদ্দেশ্য নির্ধারণের কাজ চলছে।

সাত অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও আরও কয়েকজন সম্ভাব্য সহযোগীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১৭ অক্টোবর অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল বলে জানা যাওয়া সেই নাবালকও। গোটা অভিযান বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও এখনও মেলেনি।