বাংলাস্ফিয়ার: প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে একটি বিতর্কিত জমি বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে বুধবার সওয়াল করল গুজরাত সরকার। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন পাঠান। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র তথা প্রবীণ মন্ত্রী জিতু বাঘানি বলেন, এই ধরনের অনুমোদন দেওয়া যায় কেবল ‘প্রচলিত বিধিনিয়ম মেনেই’।

সম্প্রতি গুজরাত সরকার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ভাদোদরা পুরনিগমকে ইউসুফ পাঠানের জন্য ৯৭৮ বর্গমিটার জমি বরাদ্দের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই জমির ৫০০ বর্গমিটার আবাসিক ব্যবহারের জন্য পাঠানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার দেওয়া হবে ছাড়ে—ভাদোদরা নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন কমিটি যে দাম নির্ধারণ করবে, তার ৫৫ শতাংশ দিতে হবে তাঁকে।

২০২৪ সালের জুনে এই জমি নিয়েই পাঠানকে অবৈধ দখলের নোটিস দিয়েছিল ভাদোদরা পুরনিগম। তার আগে, ২০১২ সালে প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই জমিটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন পাঠান।

ভাদোদরায় পাঠানকে জমি বরাদ্দের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাঘানি গুজরাতিতে বলেন, “পুরো বিষয়টি বিস্তারিত আমার জানা নেই। তবে রাজস্ব দফতরের আওতাধীন জমি বরাদ্দ করতে হলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মানতেই হয়। বিধিনিয়ম, আইন এবং প্রদত্ত ক্ষমতার ভিত্তিতেই তা করা হচ্ছে। বিষয়টি এমন নয় যে, আমি ইচ্ছেমতো ঠিক করে নিলাম—এটা আপনাকে দিয়ে দিই, কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে দিই। সংশ্লিষ্ট দফতর নিশ্চয়ই প্রচলিত মানদণ্ড, নীতি ও নিয়ম মেনেই জমিটি বরাদ্দ করেছে।”

কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর সঙ্গে পাঠান হাত মেলানোর পর গুজরাত সরকার নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলেছে। এই অভিযোগের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাঘানি বলেন, “অভিযোগ করার অধিকার ওদের আছে। তাই এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কংগ্রেস আগে এ বিষয়ে সরব হলে ভাল হত। ওরা যখন ওঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছিল, তখনও তো এই জমির বিষয়টি সামনে এসেছিল। তখন কংগ্রেসের আওয়াজ কোথায় ছিল?” পাঠান তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন সময়ের প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি।

বাঘানির বক্তব্য, শুধু ইউসুফ পাঠান নন, অন্য কারও জমির দখল নিয়মিত করার বিষয় সরকারের কাছে এলে সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হওয়াই স্বাভাবিক।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন অনেক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। তবে কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তি জড়িত থাকলে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। সাধারণ নাগরিকেরাও যাতে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য পান, তা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী বহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আমরা তা করে যাব।”

অন্য দিকে, পাঠানকে জমি বরাদ্দের প্রস্তাবে বুধবার আপত্তি জানিয়েছেন ভাদোদরার কংগ্রেস পুরপ্রতিনিধি দীপা শ্রীবাস্তব।

২১ অক্টোবরের লিখিত আপত্তিপত্রে ভাদোদরা পুরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশ, নথিতে আধিকারিকদের মন্তব্য, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পুরসভার বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। কী কী ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং প্রকাশ্য নিলামের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা-ও পর্যালোচনার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনত যেখানে সম্ভব, সেখানে চূড়ান্ত বরাদ্দ ও হস্তান্তর স্থগিত রাখার দাবি করেছেন শ্রীবাস্তব।

আপত্তিপত্রে তিনি বলেন, “তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, আইনত যেখানে সম্ভব, চূড়ান্ত বরাদ্দ ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত।” সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা, স্বচ্ছতা, সমতা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে যুক্তিসংবলিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র নিশান্ত রাভলও এই প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রস্তাবে ৫০০ বর্গমিটার জমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার সরকারি মূল্যায়নের উপর ৪৫ শতাংশ ছাড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাভল বলেন, পাঠান প্রথম জমিটির জন্য আবেদন করেছিলেন ২০১২ সালে। তাঁর দাবি, “১৪ বছর পরে… কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই” সেই আবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর সঙ্গে পাঠান হাত মেলানোর পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই, তাদেরও কি একই ধরনের ছাড় দেওয়া হবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাভল বলেন, “প্রশ্নটা সহজ… তিনি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন, তখন কি এই পুরনিগম বুঝতে পারেনি যে তাঁকে সম্মানিত করা উচিত?” পুরনিগম এই প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কংগ্রেস আন্দোলন চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।