বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়াল বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। সোমবার আদালত মন্তব্য করে, ওই দুই নেতা ‘আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা’ দেখাননি।

পুলিশি তদন্তের উল্লেখ করে আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, সিজেপির দুই নেতা সাধারণ মানুষকে যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ‘সংগঠিত ও প্রলুব্ধ’ করেছিলেন। অথচ যন্তর মন্তর এখন আর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান নয়। বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা লঙ্ঘন করে সেখানে প্রবেশের অভিযোগে চলা এই মামলায় সোমবার তাঁদের পেশ করা জামিনদারদেরও গ্রহণ করেনি আদালত।

তদন্তকারী আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আদালতের নির্দেশে বলা হয়, “তদন্তকারী আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, উভয় প্রতিপক্ষই সিজেপির সদস্য। তাঁরা সাধারণ মানুষকে যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য সংগঠিত ও প্রলুব্ধ করেছিলেন। অথচ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই স্থানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”

আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়, তিহাড় জেলে বন্দি রাঙ্কা ও দাস ১১ অক্টোবর নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন। এর ফলে তাঁদের ‘ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা’ তৈরি হয়েছে। পুলিশের বক্তব্যের উল্লেখ করে আদালত জানায়, ধৃত দুই সিজেপি নেতা সমাজমাধ্যমে বারবার ‘যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের মতো বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয় এমন স্থানে’ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন।

আদালত আরও জানায়, অনুমতির যাবতীয় শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলবেন—এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই ওই দুই নেতাকে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তাঁরা সেই শর্ত মানেননি বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই নেতা ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা’ দেখাননি বলে মন্তব্য করে নির্দেশে বলা হয়, “এই পর্যায়ে আমার সামনে পেশ করা আশঙ্কার কারণগুলি থেকে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, প্রতিপক্ষদের আচরণ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়; বরং তাতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব এবং বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে এমন এলাকায় বারবার প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার অভ্যাসই প্রকাশ পাচ্ছে।”

ভবিষ্যতে তাঁরা এই ‘অপরাধের’ পুনরাবৃত্তি করবেন না বলে সিজেপির দুই নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা-ও ‘আস্থা জাগায় না’ বলে জানিয়েছে আদালত। এ প্রসঙ্গে যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের মামলায় পুলিশের তদন্তের উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশে বলা হয়, “তদন্তকারী আধিকারিকের আবেদনের সমর্থনে নথিতে যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। তা শান্তিভঙ্গ এবং জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে। যথাযথ বিবেচনা ছাড়া এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

দুই নেতার অতীত আচরণ এবং ‘আসন্ন বিপদের আশঙ্কা’র কথা উল্লেখ করে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিতু রাজ তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা যাঁদের জামিনদার হিসেবে পেশ করেছেন, তাঁরা ‘জামিনদার হওয়ার উপযুক্ত নন’। কারণ হিসেবে বন্ড ও আধার কার্ডে থাকা জামিনদারের ছবির মধ্যে ‘আপাত অমিল’-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাঙ্কা ও দাসের জামিনের শুনানিতে আদালতের কার্যক্রমের নিন্দা করেছে সিজেপি। দলের নেতাদের এভাবে প্রতিরোধমূলক আটক করে রাখাকে তারা ‘আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্রহসন এবং রাষ্ট্রের মদতে ক্ষমতার সীমালঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

সিজেপির অভিযোগ, জামিনের শুনানি ছিল ‘গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমন’ করার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি ‘প্রহসন’।

দলের আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রশ্নের মধ্যেই তাঁদের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। অথচ জনশান্তির প্রতি কোনও হুমকি রয়েছে, এমন একটিও প্রমাণ কর্তৃপক্ষ পেশ করতে পারেনি।”

বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পরে দাস ও রাঙ্কার মুক্তির দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল—এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রত্না।

এক বিবৃতিতে সিজেপি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও পরিচয় যাচাই-সহ নতুন জামিনদারদের হাজির করা হলে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আসন্ন আশঙ্কার অভিযোগ তুলে দুই নেতার বিচারবিভাগীয় হেফাজত আরও বাড়ানোর জন্য নতুন আবেদন পেশ করা হয়। দলের অভিযোগ, ওই দাবির সমর্থনে কোনও বাস্তব তথ্য বা নথিভুক্ত বক্তব্য ছিল না।