বাংলাস্ফিয়ারঃ শান্তিরক্ষার মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পাঠানো নোটিসকে দিল্লি হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সভানেত্রী নেহা বোরা। সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির কাছে জরুরি শুনানির আবেদন জানাবেন।

গত ১৬ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নেহাকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়। ১৭ অক্টোবর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৩০ ধারার সঙ্গে পঠিত ১৩৫(৩) ধারার অধীনে ১৮ অক্টোবর নোটিসটি জারি করে দিল্লি পুলিশের নয়াদিল্লি জেলা। তবে নোটিসে তারিখ ছিল ১৭ অক্টোবর। তাতে নেহাকে ১৯ অক্টোবর দুপুর ২টোয় নয়াদিল্লি জেলার বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির হতে বলা হয়। পাশাপাশি, ‘অনুসন্ধান চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য’ একজন জামিনদার-সহ ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়।

আইসা জানিয়েছে, নেহার আবেদনে নোটিসটির উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ এবং তা প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, নোটিসটি প্রাথমিক দৃষ্টিতেই অস্পষ্ট ও তথ্যগতভাবে ভুল। এটি সংবিধানের ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদও লঙ্ঘন করে। অভীক চিমনি, প্রাঞ্জল আব্রোল ও মোক্ষার নেতৃত্বাধীন তাঁর আইনজীবী দল বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও হাজির হবে। সেখানে নোটিসের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সেটিকে হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টিও জানানো হবে।

এই নোটিসকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার পরিকল্পিত চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে আইসা। সংগঠনের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিলের দাবিতে চলা বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশ বারবার বিএনএসএসের ১৬৩ ধারার অপব্যবহার করেছে। আগে এই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করা হতো ১৪৪ ধারায়।

আইসার আরও অভিযোগ, বিক্ষোভ দমন করতে সরকার ৪০ হাজারেরও বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে, মেট্রো স্টেশন বন্ধ করেছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে।