বাংলাস্ফিয়ার: সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হল। সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লির মন্দির মার্গ থানায় নবনিযুক্ত এক বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করানো হয়। সেখানেই তাঁদের আরও দু’দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন।

দলের দুই সহ-আহ্বায়কের মুক্তি আটকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে জামিনের শুনানিতে দেরি করানো হচ্ছে—সিজেপির এই অভিযোগের মধ্যেই হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল। যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ দেখানোর পর ১৩ অক্টোবর তাঁদের প্রথমে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল।

অভিযোগ, তালাবদ্ধ ফটক টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকেছিলেন ওই দুই নেতা। এর আগেই বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

সিজেপির অন্য কর্মীদের সঙ্গে তাঁরা সেখানে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এরপর তাঁদের আটক করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন।

সূত্রের খবর, সোমবার পুলিশ দুই নেতার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের আরও দু’দিন জেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বুধবার, ২১ অক্টোবর, তাঁদের ফের হাজির করানো হবে।

রবিবার তাঁদের জামিনের বিষয়টি শুনছিলেন যে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তিনি দাবি করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর পুলিশ একটি অ-আমলযোগ্য অভিযোগ নথিভুক্ত করে।

এক্সে একটি পোস্টে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, “আদালতের কার্যক্রমে দেরি করাতে এবং ওদের মুক্তি আটকাতে যত রকমের নোংরা কৌশল সম্ভব, সবই ব্যবহার করছে রাষ্ট্র। এভাবেই আশু ও সৌরভের বেআইনি বন্দিদশা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ওদের কারাগারে আটকে রাখার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তাই সেখানে আটকে রাখতে ওরা কালক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছে।”

সিজেপির আরও অভিযোগ, তাদের নেতাদের মুক্তির জন্য যাঁরা জামিনদার হতে চেয়েছিলেন, তাঁদেরও ‘অস্পষ্ট’ কারণ দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।