বাংলাস্ফিয়ার: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর যুব বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তবে বর্তমান সঙ্কটের সমাধানে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন।
শনিবারের বিক্ষোভের আগে দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার মতো সরকারি কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পাসোয়ান বলেন, “এঁরা ভারতের তরুণ। কোনও কিছুই এঁদের থামাতে পারবে না।” শুক্রবার, ৯ অক্টোবর হরিয়ানার সোনিপতের কুন্ডলিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফুড টেকনোলজি এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (নিফটেম-কে) সপ্তম সমাবর্তনে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি।
তাঁর প্রশ্ন, “কতগুলো ট্রেন বন্ধ করা যাবে, আর কত দিন ধরে? কতগুলো রাস্তা আটকানো যাবে? সত্যিই কি এ ভাবে ওঁদের আটকে রাখা সম্ভব?”
পাসোয়ান বলেন, তরুণদের কথা শুনতে হবে। এ প্রসঙ্গে নিজের চলতি ‘ইয়ুথ বোলে তো’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগে সহমত ও ভিন্নমত—সব ধরনের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেন তিনি এবং জেন জ়ি প্রজন্মের উদ্বেগ, পরামর্শ ও অভিযোগ শোনেন।
তিনি বলেন, “আমি একমত হতে পারি, দ্বিমতও হতে পারে। কিন্তু আমরা আলোচনা করি, যাতে শেষ পর্যন্ত একটা সমাধানে পৌঁছনো যায়। তাই আগামীকালের যে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমার মনে হয় আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে আমরা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারি।”
ককরোচ জনতা পার্টি শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন, কৃষক সংগঠন এবং আরও কয়েকটি গোষ্ঠী।
বিহারের এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের জায়গা সব সময়ই থাকে। তবে গত তিন দিন ধরে বিরোধীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আপনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য যদি শুধু প্রতিবাদ করাই হয়, তা হলে করুন… কিন্তু শুধু প্রতিবাদ করে সমাধান মিলবে না; আলোচনার মাধ্যমেই তা মিলবে। আপনারা যদি কোনও বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়ে থাকেন, প্রথম দিনেই তা করেছেন। কিন্তু বারবার দিল্লির রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষকে এ ভাবে দুর্ভোগে ফেলা কতটা ন্যায্য? আপনারা রাজনীতি করার জন্যই এ সব করছেন। নির্বাচনে জিততে পারছেন না বলে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছেন।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে পাসোয়ান বলেন, তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকবেন। তাঁর বক্তব্য, মিছিল করার পরিবর্তে বিরোধীরা যদি ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের সময় চাইতেন, তা হলে তাঁদের সব প্রশ্নের উত্তর পেতেন।
তিনি বলেন, “আসল কথা হল, ওঁরা আদৌ সমাধান চান না। ওঁরা শুধু প্রতিদিন হইচই করতে চান। গত তিন দিন ধরে একটানা সেটাই করে চলেছেন।”