বাংলাস্ফিয়ার: ইলন মাস্কের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথোপকথনকে কেন্দ্র করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করল বিজেপি। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, সাংবাদিক বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি রাম মাধব প্রশ্ন তোলেন, কী এমন ঘটল যে রাহুল হঠাৎ ‘সারেন্ডার গান্ধী’ হয়ে গেলেন? একই সঙ্গে ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর পথে বাধা নিয়ে মাস্কের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে বিজেপি। দলের বক্তব্য, স্পেকট্রাম বণ্টন হবে আইন মেনে, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন পদ্ধতিতে। কোনও সংস্থার জন্য নিয়ম বদলানো হবে না।
রাম মাধবের অভিযোগ, রাহুল এত দিন বিজেপির বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্ব ও মাস্কের কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ তুলতেন। অথচ এখন তিনিই মাস্কের হয়ে সওয়াল করছেন। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অতীতে স্টারলিঙ্ক নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে মাধব জানতে চান, কংগ্রেসের অবস্থান বদলের কারণ কী। ইউপিএ আমলে স্পেকট্রাম বণ্টন ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও সামনে আনেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা এবং সমস্ত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা শুরু হতে দেরি নিয়ে মাস্কের ক্ষোভ থেকে। বুধবার এক্সে তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী শিল্পপতি নিজেদের বাজারের আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে তাঁর সংস্থার প্রবেশ আটকে দিচ্ছেন। পরের দিন আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, আম্বানিই কি ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক? মাস্কের দাবি, স্টারলিঙ্ক ১৬৫টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত। ভারতে পাঁচ বছর ধরে সমস্ত আইন ও শর্ত মেনেও প্রয়োজনীয় অনুমতি মিলছে না।
মাস্কের সেই পোস্টের জবাবে রাহুল তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন—অন্য ব্যক্তিটিকে চিনতে পারলে আরও বুঝবেন। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। মাস্ক পাল্টা রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলেন। এই সংক্ষিপ্ত বিনিময়কে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়। বিজেপি একে মাস্কের বাণিজ্যিক দাবির পক্ষে বিরোধী দলনেতার অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে।
এদিকে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছিল, উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত ছাড়পত্র এখনও কোনও আবেদনকারী পায়নি। প্রত্যেক সংস্থাকে আগে ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্টারলিঙ্কের বক্তব্য অবশ্য, তাদের ভারতীয় কার্যক্রম স্থানীয় বিধি মেনেই তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের মধ্যেই রাখার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুরক্ষার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে অনুমোদনের বিলম্ব নিয়ে সংস্থা ও সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।
মাস্কের মন্তব্যের জবাবে রাম মাধব বলেন, ভারতের নিজস্ব আইন, প্রতিষ্ঠান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশ ও তার নেতৃত্বের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তাঁর যুক্তি, শুধু স্টারলিঙ্ক নয়, জিয়ো ও এয়ারটেলও স্পেকট্রামের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই কোনও একটি সংস্থাকে বেছে আটকে দেওয়ার অভিযোগ তিনি মানতে নারাজ। উপযুক্ত সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান বিজেপি নেতা।
বিতর্কে যোগ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখরও। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে সরকারের সদস্য নন এবং সরকারের হয়ে বক্তব্য রাখছেন না। তাঁর উপলব্ধি অনুযায়ী, তিনটি উপগ্রহ যোগাযোগ পরিষেবার লাইসেন্সধারীই নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার পরেই স্পেকট্রাম দেওয়ার বিষয়টি আসবে।