বাংলাস্ফিয়ার: ভূরাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের লেখা ও জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন রাষ্ট্রদূতেরা। পড়ুয়া ও তরুণদের সঙ্গে তাঁদের আলাপচারিতাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
কূটনীতিকদের নিয়ে এই প্রথম আয়োজিত হতে চলেছে এমন এক সাহিত্য উৎসব। ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবরের এই উদ্যোগের ভাবনা এসেছে ১৯৮৩ ব্যাচের ভারতীয় বিদেশসেবা আধিকারিক জ্ঞানেশ্বর মুলের কাছ থেকে। বিদেশ মন্ত্রকের সচিব থাকাকালীন ভারতের পাসপোর্ট পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন ও তার ব্যাপক প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি ‘ভারতের পাসপোর্ট ম্যান’ নামে পরিচিত। নিউ ইয়র্ক, মালদ্বীপ ও রাশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব সামলেছেন মুলে।
হিন্দি ও মারাঠিতে এক ডজনেরও বেশি বই লিখেছেন তিনি। মুলে বলেন, “আমি একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। লেখালিখি আমার বরাবরের ভালোবাসা। কিন্তু বিদেশনীতি কীভাবে পরিচালিত হয়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় বড় ফাঁক রয়েছে বলে সব সময় মনে হয়েছে। যেমন, আমার মা জানতেনই না তাঁর ছেলে ঠিক কী কাজ করে। তাই মা এবং গ্রামের অন্য মানুষদের বিষয়টির খুঁটিনাটি বোঝাতে মারাঠি ভাষায় বই লিখেছি।”
মুলের কথায়, উৎসবের মূল উদ্দেশ্য পড়ুয়া ও তরুণদের এক জায়গায় নিয়ে আসা, যেখানে অংশগ্রহণকারী কূটনীতিকেরা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে নিজেদের কাজ ও জীবনের কথা শোনাবেন। সে জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিন দিন ধরে তাঁরা বিভিন্ন অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। অধিবেশনের বাইরেও কূটনীতিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।
মুলে বলেন, “পড়ুয়ারা ভাবুক—কূটনীতিকদের আদৌ প্রয়োজন হয় কেন?”
উৎসবের অধিবেশনগুলি মূলত ভাষা, লেখা ও সাহিত্যের অভিজ্ঞতাকে ঘিরে সাজানো হয়েছে। তবে কয়েকটি আলোচনায় উঠে আসবে আসিয়ান এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, ইউরোপ কেন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এবং গ্লোবাল সাউথ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জোটনিরপেক্ষতা কেন এগিয়ে যাওয়ার পথ হতে পারে—এমন বিষয়ও।
‘ফরেনার ইন ট্রান্সলেশন’ বা ‘অনুবাদে বিদেশি’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রদূত নভদীপ সুরি। অংশ নেবেন মঙ্গোলিয়ার গনচিগ গানবোল্ড এবং মিশরের মহম্মদ তৌফিক।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন শ্রীরাম চৌলিয়া। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পাকিস্তানে ভারতের কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করা টি সি এ রাঘবন, রুচি ঘনশ্যাম এবং অজয় বিসারিয়া।