বাংলাস্ফিয়ারঃ শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন একতরফাভাবে শারীরিক সম্পর্কে অসম্মতি জানানো মানসিক নিষ্ঠুরতার শামিল। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে স্বামীর পক্ষে দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি বহাল রাখল রাজস্থান হাই কোর্ট। একই সঙ্গে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য স্ত্রীর আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে আদালত।

বিচারপতি মুন্নুরি লক্ষ্মণ ও বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিতের ডিভিশন বেঞ্চ স্ত্রীর দায়ের করা দু’টি আপিল খারিজ করেছে। একটি আপিলে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি এবং অন্যটিতে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আবেদন খারিজের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

৬ অক্টোবর আদালত বলেছে, ‘‘শারীরিক অক্ষমতা বা কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই আবেদনকারী স্ত্রী যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে একতরফাভাবে শারীরিক সম্পর্কে অসম্মতি জানিয়েছেন, যা মানসিক নিষ্ঠুরতার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।’’

২০১৮ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। স্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পরে স্ত্রী প্রায় ১০ দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তার পরে চাকরির জন্য জয়সালমেরে ফিরে যান। পরবর্তী সময়ে স্বামীও সেখানে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন থাকেন। তবে তাঁর অভিযোগ, এর পর তাঁদের মধ্যে আর শারীরিক সম্পর্ক হয়নি।

স্বামী আরও অভিযোগ করেন, তাঁর পেশা নিয়ে স্ত্রী কটাক্ষ করতেন, তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপন করতে অস্বীকার করতেন এবং আত্মহত্যার হুমকি দিতেন। তাঁর দাবি, স্ত্রীর এই আচরণের ফলে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে, স্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, স্বামী তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতেন এবং বেতনের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী বারবার দাবি করতেন, হয় তাঁকে চাকরি ছাড়তে হবে, নয়তো বেতনের অর্ধেক স্বামীর হাতে তুলে দিতে হবে। স্ত্রী জানান, তিনি স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপন করতে প্রস্তুত।

২০২৪ সালে পারিবারিক আদালত নিষ্ঠুরতার ভিত্তিতে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর দু’টি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে আবেদন করেন স্ত্রী।

সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মামলায় উভয় পক্ষের বক্তব্য পরীক্ষা করে হাই কোর্ট জানায়, স্ত্রী আত্মহত্যার হুমকি দিতেন বলে স্বামী যে অভিযোগ করেছেন, তা প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষের কারও শারীরিক অক্ষমতা নেই। এই পরিস্থিতিতে কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। আবেদনকারী যে এতে সম্মতি দেননি, তা মামলার বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকেও স্পষ্ট।’’

হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত, স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্কে অসম্মতি এবং আত্মহত্যার হুমকি মানসিক নিষ্ঠুরতার শামিল, যা বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ ভিত্তি।

আদালত বলেছে, ‘‘এটা স্পষ্ট যে নিষ্ঠুরতার ভিত্তিতে ১৩(১)(আইএ) ধারায় বিচারিক আদালত যে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিয়েছে, তা সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই ডিক্রিতে হস্তক্ষেপ আইনত অনুমোদনযোগ্য বলে মনে হয় না।’’

এই যুক্তিতেই স্ত্রীর দু’টি আপিল খারিজ করে পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে রাজস্থান হাই কোর্ট।