বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম ৬-এ নির্বাচন কমিশনের আনা পরিবর্তন সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি, আবার প্রত্যাখ্যানও করেনি। সোমবার, ১২ অক্টোবর, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, পরিবর্তিত ফর্ম এবং তার সঙ্গে যুক্ত ঘোষণার বৈধতা নিয়ে এখনও বিচার হয়নি। বিহারের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত আগের রায়কে এই পরিবর্তনের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে প্রিয়া মিশ্রের আবেদনের শুনানিতে। আবেদনকারীর আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র বলেন, গত ৫ অক্টোবর আদালত জানিয়েছিল, সংশোধিত ফর্ম ৬ অনুমোদন করা হয়নি। অথচ নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, ওই পরিবর্তন সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এই দুই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলেই তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রিয়া মিশ্রের সঙ্গে আবেদনকারী রয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী পি সি শর্মা; কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্তগ্রহণও আবেদনের বিষয়।
বেঞ্চ তখন জানায়, আগের মন্তব্যের অর্থ ছিল, নতুন ফর্মটি আদালতের বিচারাধীন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিচারপতি বাগচী ব্যাখ্যা করেন, বিহারের এসআইআর নিয়ে রায় দেওয়ার সময় পরিবর্তিত ফর্ম ৬-এর অস্তিত্বই ছিল না। তাই সেই রায়ের মাধ্যমে সেটি অনুমোদিত অথবা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, কোনওটিই বলা যায় না। বিষয়টি আদালত পরীক্ষা করবে।
ঘটনাক্রমের এই পার্থক্যই বিতর্কের কেন্দ্র। বিহারে পরীক্ষামূলক এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল ২৭ মে। কিন্তু ইসিআইনেট পোর্টালে ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন এবং সংশোধিত ঘোষণা যুক্ত হয় পরে, জুলাইয়ে। সেখানে আবেদনকারীর বংশপরিচয় অথবা আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগসূত্রের তথ্য চাওয়া হয়। ফলে মে মাসের বিচারিক সিদ্ধান্ত পরবর্তী পরিবর্তনের নিষ্পত্তি করেনি।
ফর্ম ৬ মূলত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনপত্র। নতুন ভোটারদের পাশাপাশি আগে নাম বাদ পড়েছে এমন ব্যক্তিও নতুন করে অন্তর্ভুক্তির জন্য এটি ব্যবহার করেন। বিতর্কিত অনলাইন ঘোষণায় আবেদনকারী নিজে কিংবা তাঁর বাবা, মা অথবা পূর্বপুরুষের নাম আগের এসআইআরে প্রস্তুত তালিকায় ছিল কি না, সেই সম্পর্কিত তথ্যের প্রসঙ্গ এসেছে। আবেদনকারীদের আপত্তি, এতে নাম তোলার প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত চাপানো হচ্ছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী এই পরিবর্তনের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়। তাঁদের আপত্তির কেন্দ্রে ছিল ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি। প্রয়োজনীয় বিধি সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অনলাইন আবেদনপত্রে এমন ঘোষণা যোগ করা যায় কি না, মামলাতেও সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। সেই বক্তব্য এবং ৫ অক্টোবরের আদালতের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সোমবার প্রধান বিচারপতি শুনানিতে ব্যবহৃত শব্দ বেছে নিয়ে বক্তব্যের অর্থ দাঁড় করানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। আদালতের ব্যাখ্যা ছিল, এখনও বিচার হয়নি মানেই ফর্মটি বাতিল হয়েছে নয়।
আবেদনকারীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ঘোষণা ও পারিবারিক নথির শর্ত প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া মানুষ এবং প্রয়োজনীয় পুরনো নথি নেই এমন নাগরিকদের সমস্যায় ফেলতে পারে। তবে এই আশঙ্কা ও পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ এখনও আদালতে পরীক্ষার অপেক্ষায়। সোমবারের মৌখিক পর্যবেক্ষণকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবেও দেখা যাবে না।
আদালত নতুন আবেদনে নোটিস জারি করে একই ধরনের বিচারাধীন মামলার সঙ্গে সেটি যুক্ত করেছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৭ অক্টোবর। সোমবারের ব্যাখ্যায় তাই অবস্থান পরিষ্কার: বিহারের এসআইআর নিয়ে আগের রায় এবং পরে আনা ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন পৃথক বিচার্য বিষয়। নতুন ঘোষণার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত উত্তর এখনও আসেনি।