বাংলাস্ফিয়ারঃ কংগ্রেস নির্বাচনে বারবার হারের জন্য নিজেদের ‘দিশাহীন নেতৃত্ব’কে দায়ী না করে নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

বিজেপির সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে চৌহান বলেন, “বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে কংগ্রেস মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। একই সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করছে। মানুষের চোখে দলটি ইতিমধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং তার রাজনৈতিক অবক্ষয় অব্যাহত রয়েছে।”

তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের ধারা থামছেই না। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলির ফল কী হয়েছে, সবাই জানেন। অসমে কংগ্রেসের অবস্থাও সকলের সামনে স্পষ্ট। ত্রিপুরায় এবং রাজস্থানের স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে দলটি হেরেছে। তার আগে হেরেছে হিমাচল প্রদেশেও। একের পর এক নির্বাচনে হেরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের মাধ্যমে হতাশা উগরে দেওয়াই এখন কংগ্রেসের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

চৌহান বলেন, “নির্বাচনে নিজেদের পরাজয়ের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দায়ী করে কংগ্রেস পাপ করছে। কংগ্রেসের হারের কারণ নির্বাচন কমিশন নয়। কারণ হল কংগ্রেসের নিজস্ব ‘ভাবনাশূন্য’ নেতৃত্ব—যে নেতৃত্বের কোনও ভাবনা বা দিশা নেই।”

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলের প্রসঙ্গেও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন চৌহান। বিরোধী দলের সাক্ষাতের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। চৌহান বলেন, বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে লোকসভার বিরোধী দলনেতার অবস্থান এবং একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে তাঁর মতামত সকলেরই জানা।

এই প্রবীণ বিজেপি নেতা বলেন, “তা ছাড়া, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করারও একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। শুধু একটি চিঠি লিখে যখন খুশি সেখানে হাজির হয়ে যেতে পারেন না। এ কেবল নাটক, নিছক নাটক, নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।”

কংগ্রেস এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তার আন্দোলনকে রাহুল গান্ধী ‘শিবের বরযাত্রী’ বলে বর্ণনা করায় তাঁর সমালোচনা করেন চৌহান। তিনি বলেন, “যাঁরা রামের বিরোধিতা করেন, তাঁরাই এখন ভগবান শিবের কথা বলছেন। এ শিবের বরযাত্রা নয়; এ হল উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের ভিড়, যারা রাস্তায় অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের ‘নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ’, পাঞ্জাবে সম্প্রতি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বদল এবং কর্নাটক ও তেলঙ্গানায় চলতে থাকা ‘ক্ষমতার লড়াই’-এর প্রসঙ্গও তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের নির্বাচনী পরাজয়ের মূলে রয়েছে দলের নিজস্ব নেতৃত্ব, “যারা দেশ ও দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বোঝে না, আবার ভারতের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গেও যাদের শিকড়ের যোগ নেই।”

তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থার সময়ে কংগ্রেস গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করেছিল। সেটি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। দেশের বেশ কয়েকটি বড় রাজ্য থেকে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই মুছে গিয়েছে। একাধিক রাজ্যে দলটির কার্যত অস্তিত্বই নেই। তিন-চারটি রাজ্য বাদ দিলে অন্য রাজ্যগুলিতেও তারা ছোট শরিকের ভূমিকায় নেমে এসেছে।”

চৌহানের বক্তব্য, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে কংগ্রেস “ছোট শরিক এবং পরজীবী দলে পরিণত হয়েছে”।

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার জন্য ওরা কখনও বামপন্থীদের, কখনও ‘আরশোলাদের’, কখনও জর্জ সোরোসের মতো দেশবিরোধী শক্তির সমর্থন চায়… রাস্তায় আন্দোলন করে কংগ্রেস যতই অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করুক, সফল হবে না। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই মানুষের আস্থা হারিয়েছে। ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক অবক্ষয় আরও বাড়বে।”

এদিকে এক্সে একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কংগ্রেসকে ‘দিশাহীন দল’ বলে উল্লেখ করেন। নির্বাচনী ফল ভাল করতে দলটির একজন ‘পরিণত ও দায়বদ্ধ নেতা’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজিজু লেখেন, “প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কিন্তু সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নির্লজ্জভাবে গালিগালাজ করা নিন্দনীয়। কংগ্রেস এখন দিশাহীন। তবে এমন একজন পরিণত ও দায়বদ্ধ নেতা পেলে তারা আসনসংখ্যা বাড়াতে পারে, যিনি বছরে ২০০ দিন ছুটি কাটাতে ভালবাসেন না!”

কংগ্রেসের কেরল শাখার একটি পোস্টের জবাবে রিজিজু বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, কংগ্রেসের পরবর্তী নিশানা বিচারব্যবস্থা। কংগ্রেস ভারতের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়। সব ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হাত মেলাচ্ছে। সব দেশপ্রেমিক ভারতীয়ও একজোট হবেন।” কেরল কংগ্রেসের ওই পোস্টটি পরে মুছে দেওয়া হয়।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের অভিযোগ, মিছিলে অংশ নেওয়া বিরোধী নেতাদের নিয়মকানুন ও আইন সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই।

ঠাকুর বলেন, “ওঁরা শুধু জানেন কীভাবে অরাজকতা ও অস্থিরতা তৈরি করতে হয়, কীভাবে সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করতে হয়; বিশ্বের সামনে ভারতের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করতে হয় এবং দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এমন একজন অস্থিরমতি, নৈরাজ্যবাদী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধী দলনেতার নাটক এবং বায়নাক্কা দেশকে দেখতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি, প্রমাণ কোথায়?… অভিযোগ করলে তার প্রমাণও দিতে হবে। কোন নিয়ম ও পদ্ধতি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, কোন আইন ভাঙা হয়েছে? অভিযোগ তোলা যদি বিরোধীদের কাজ হয়, তা হলে সেই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দেওয়াও তাদের কাজ।”