বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের শেষে পাঞ্জাবে মোট ভোটারসংখ্যা কমল ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৩১৬। সোমবার, ১২ অক্টোবর রাজ্যের ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে নাম রয়েছে ২ কোটি ১ লক্ষ ৭২৭ জনের। এসআইআরের আগে, ৯ জুনের হিসাবে রাজ্যে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২ কোটি ১৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৩ জন। সেই তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার কমেছে প্রায় ৬.৩৪ শতাংশ।
তবে খসড়া তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে ছবিটি আলাদা। পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনিন্দিতা মিত্র জানিয়েছেন, ১৩ আগস্ট প্রকাশিত খসড়ায় ভোটার ছিলেন ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৪৩৫ জন। সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকায় নিট বেড়েছে ৭ লক্ষ ৬ হাজার ২৯২ জন, অর্থাৎ ৩.৬৪ শতাংশ। ফলে খসড়ার তুলনায় ভোটার বেড়েছে এবং এসআইআরের আগের তুলনায় কমেছে—দু’টি তথ্যই সঠিক। তুলনার ভিত্তি আলাদা হওয়াতেই এই আপাত বিরোধ।
এই হিসাব বোঝার ক্ষেত্রে আরও একটি পার্থক্য জরুরি। ১৩.৬০ লক্ষ হল গোটা প্রক্রিয়ার আগে ও পরের ভোটারসংখ্যার নিট ব্যবধান। একে সরাসরি মোট বাতিল হওয়া নামের সংখ্যা বললে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, কারণ সংশোধন চলাকালীন নতুন নামও যুক্ত হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৬৩ জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। খসড়া প্রকাশের সময়ে প্রাথমিক তালিকার তুলনায় ভোটার কম ছিল ২০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬০৮।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পাঞ্জাবে এসআইআর শুরু হয় ২৫ জুন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর্ব চলে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর খসড়া তালিকা প্রকাশ করে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয় ১৩ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর। নোটিস, শুনানি এবং আবেদন নিষ্পত্তির পর্ব চলে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা নথিপত্র ও বুথ স্তরের আধিকারিকদের রিপোর্ট পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন বলে জানানো হয়েছে।
যাচাইয়ের সময়ে ৩৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৬ জন ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৩৮ জনকে বিস্তারিত পরীক্ষার পরে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যাকে সামগ্রিক নিট হ্রাসের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। নোটিস পাওয়া ভোটারদের মধ্যে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তির সংখ্যা এবং গোটা তালিকায় ভোটারসংখ্যার পরিবর্তন পৃথক পরিসংখ্যান।
অনিন্দিতা মিত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত্যুর ঘটনা, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া এবং একাধিকবার নাম থাকার মতো কারণে তালিকা ছোট হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মৃত ভোটারদের শংসাপত্র সংগ্রহ এবং একাধিকবার থাকা নামের পৃথক তালিকা তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের চূড়ান্ত তালিকার প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণদের পাশাপাশি মহিলারাও রয়েছেন বলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকায় পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৬ জন, মহিলা ৯৭ লক্ষ ২৪ হাজার ১৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫০৬ জন। ভোটদানের সুবিধা বাড়াতে রাজ্যে বুথের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ভোটকেন্দ্র ছিল ২৪ হাজার ৪৫৩টি; এখন তা হয়েছে ২৫ হাজার ৩৩২টি। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৮৭৯টি ভোটকেন্দ্র যুক্ত হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেও যোগ্য নাগরিকদের নাম তোলার আবেদন করার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। যাঁদের নাম নেই, তাঁরা ইসিআইনেট অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিকের কাছে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। ফলে এখন নাগরিকদের জন্য জরুরি কাজ হল তালিকায় নিজের নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা এবং কোনও ঘাটতি থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন জানানো।