বাংলাস্ফিয়ার : দশেরায় অস্ত্রপুজোর সময় আইপিএস অফিসার অঙ্কিতা শর্মার গুলি চালানোর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক সংবাদ চ্যানেল ও ওয়েব পোর্টালেও সেটি দেখানো হয়। এর পরেই নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং অস্ত্র ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ছত্তীসগঢ়ের রাজনন্দগাঁও জেলার এক উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। দশেরায় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপুজোর সময় শাড়ি পরে একে-৪৭ রাইফেল থেকে তাঁকে শূন্যে গুলি ছুড়তে দেখা যায় একটি ভিডিওতে। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে সমালোচনার মুখে পড়েন ওই অফিসার, অঙ্কিতা শর্মা।

শোকজের কারণ ব্যাখ্যা করে এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ঘটনাটি বিধি ও নিরাপত্তার নিয়মের পরিপন্থী। তাই আমরা বিষয়টি নজরে নিয়ে তাঁকে জানাতে বলেছি, কোন পরিস্থিতিতে এমনটা ঘটেছিল।”

ঘটনাচক্রে, একই উৎসবে অস্ত্রপুজোর অঙ্গ হিসেবে ছত্তীসগঢ়ের একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের রাইফেল থেকে শূন্যে গুলি চালানোর ভিডিও সামনে এসেছে। রায়পুর, বিলাসপুর, রায়গড়, দুর্গ, কবীরধাম এবং বস্তারেও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, “কোনও উচ্চপদস্থ অফিসারের শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়াকে শুভ বলে মনে করা হয়।”

অন্য অফিসারদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে এক উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা বলেন, “না। আমরা শুধু তাঁকেই [শর্মাকে] নোটিস দিয়েছি। কারণ, তাঁর ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং পুলিশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। তাই তাঁকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।”

এই বিষয়ে শর্মার বক্তব্য জানতে ফোন করা এবং বার্তা পাঠানো হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার আর কে বিজ বলেন, গুলি চালাতে হলে তা কেবল নিরাপদ জায়গায় এবং যথাযথ সতর্কতা নিয়েই করা উচিত। তাঁর কথায়, “এই প্রথা মূলত অস্ত্রের পুজো করার, অস্ত্র থেকে গুলি চালানোর নয়। এভাবে গুলি চালালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই তা এড়িয়ে চলা উচিত।”

সমাজমাধ্যমে বিতর্ক:

এর আগে ওই দিনই ভিডিওটিতে “কী কী ভুল রয়েছে”, তা তুলে ধরে প্রাক্তন সেনাকর্তা কেজেএস ধিলোঁ এক্সে লেখেন, “গুলি-ভরা অস্ত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্ত্র ব্যবহারের নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। গুলি-ভরা অস্ত্রের নল সব দিকে ঘোরানো হচ্ছে…”

ভিডিওর পিছনে থাকা মানুষজনকে দৃশ্যত আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই অফিসার “অনুমোদনহীন পোশাকে এমন একটি কাজে সরকারি অস্ত্র থেকে গুলি চালাচ্ছেন, যার অনুমতি নেই। অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক নিয়মও মানা হয়নি।”

অন্য দিকে, সমাজমাধ্যমের এক ব্যবহারকারী শর্মার পক্ষে যুক্তি দিয়ে এক্সে লেখেন, তিনি একজন প্রশিক্ষিত আইপিএস অফিসার। তাঁর মতে, শর্মাকে নিশানা করে সমালোচনার একাংশের কারণ হল, তিনি শাড়ি পরে রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএস অফিসার জানান, ফাঁকা কার্তুজ ছোড়া—যা সাধারণভাবে ‘আওয়াজি কার্তুজ’ নামে পরিচিত—রাজ্যজুড়ে পালিত অস্ত্রপুজোর প্রথার অংশ। তবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে প্রকৃত গুলিযুক্ত কার্তুজ ব্যবহার করা হয় না বলে তাঁর দাবি।

ওই অফিসার আরও বলেন, শূন্যে ছোড়া গুলিও শেষ পর্যন্ত মাটিতে ফিরে আসে এবং আশপাশের মানুষকে আহত করতে পারে।