বাংলাস্ফিয়ারঃ নবরাত্রি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গুজরাতের তাপি জেলার সোনগড় শহরে এক ব্যক্তির বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠল। পুলিশের বক্তব্য, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রায় ২৫ জনের একটি দল ওই হামলা চালায়। ঘটনায় ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত বাড়ির মালিকের নাম গৌরব চৌধরি। নবরাত্রি সংক্রান্ত একটি পোস্ট ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর বাড়িতে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
ডিএসপি পারমার বলেন, “অভিযোগকারী সমাজমাধ্যমে একটি মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে দাবি করে প্রায় ২৫ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে পাথর ছোড়ে। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও দাঙ্গার অভিযোগে মামলা করেছি।”
এই মামলার এফআইআরকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ফলে তার বিষয়বস্তুর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। ২০১৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইয়ুথ বার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার প্রতিলিপি পুলিশ বা রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। উদ্দেশ্য, মামলার সঙ্গে যুক্ত যে-কোনও ব্যক্তি যাতে সেটি দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারেন। তবে যৌন অপরাধ, সশস্ত্র বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধের মতো ‘সংবেদনশীল’ ক্ষেত্রে এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
কোন ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তিরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ, তা জানতে চাইলে পারমার বলেন, “পোস্টটি গরবা নিয়ে ছিল এবং তাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছিল। পরে পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘটনাটি ঘটে।”
সমাজমাধ্যমে কথিত আপত্তিকর পোস্টটি যিনি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধেও পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে পারমার বলেন, “এখনও পর্যন্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
দক্ষিণ গুজরাতের তাপি জেলায় গত কয়েক বছরে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন বেশ কয়েকটি হিংসাত্মক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ভিন্রাজ্য থেকে আসা মানুষ, নদী সংযুক্তিকরণ ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকাঠামো এবং খনি শিল্পের প্রকল্পগুলি আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে।
২০২৪ সালে কয়েক মাস ধরে তাপি জেলার একাধিক গ্রামে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছিল।
সে বার অশান্তির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ‘দেব বিরসা মুন্ডা সেনা’ বা ডিবিএমএস নামে একটি সংগঠন স্থানীয় ধর্মীয় সমাবেশগুলিতে আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, ওই সমাবেশগুলিকে আদিবাসীদের ধর্মান্তরিত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা ডিবিএমএসের তাপি জেলা সভাপতি তথা আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য জিগনেশ গামিতকে হুমকি দিয়েছিলেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে, জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত ব্যারা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মোহন কোকনির কুশপুতুল পোড়ানোর চেষ্টা করেছিল ডিবিএমএস বলে অভিযোগ। ব্যারা শহরে জেলাশাসকের দফতরের বাইরে ওই ঘটনা ঘটে। কোকনি একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখার পর সংগঠনটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে।
সোনগড় তালুকের খোগল গ্রামের বাসিন্দা গামিত দাবি করেছিলেন, তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিবিএমএস প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, “আদিবাসীরা হিন্দু। গত ৩০–৩৫ বছর ধরে আমাদের আদিবাসী অধ্যুষিত জেলায় খ্রিস্টান মিশনারিরা কাজ করছেন। তাঁরা বহু আদিবাসীকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতে সফল হয়েছেন… আদিবাসীরা তফসিলি জনজাতি বা এসটি পরিচয়ের কারণে শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের মতো সুবিধা পান, অথচ তাঁরা খ্রিস্টধর্ম পালন করেন। সরকারি নথিতে তাঁরা নিজেদের ‘আদিবাসী-হিন্দু’ হিসেবে দেখান। কিন্তু তাঁরা খ্রিস্টধর্ম পালন করেন বলে তাঁদের এই সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া উচিত নয়।”