বাংলাস্ফিয়ার: তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযান ক্রমশ তীব্র হওয়ার মধ্যেই ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলনের দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। গত সপ্তাহে তাঁদের জেলে পাঠানো হয়েছিল।

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি আন্দোলনের দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তার পর থেকে এক সপ্তাহ তাঁরা দিল্লির তিহার জেলে ছিলেন।

পুলিশ তাঁদের কারাবন্দি রাখার চেষ্টা করলেও বুধবার এক বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দাস ও রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে আর শান্তিভঙ্গ করবেন না—এই মর্মে তাঁদের মুচলেকায় সই করানো হয়।

দেশের ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগের প্রতিবাদে দু’সপ্তাহ আগে রাজধানীতে সিজেপির একটি মিছিলের উপর কঠোর পুলিশি দমন অভিযানের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ওই অভিযানে মধ্য দিল্লি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল এবং হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়েছিল।

এর কয়েক দিন পরে দাস ও রাঙ্কা পুলিশের ব্যারিকেড টপকে মধ্য দিল্লির একটি ঘিরে রাখা স্থানে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন। তখন দ্বিতীয় বার তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

দু’জনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ ও শান্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। প্রথমে তাঁদের পাঁচ দিনের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। তাঁদের বন্দি করে রাখার ঘটনায় যুব আন্দোলনের নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য সিজেপি নেতাদের জেলে পাঠানোকে সরকারের ‘কাপুরুষতা’ বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

বুধবার সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের পরে দাস বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে।”

দুই নেতার মুক্তি ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর দমননীতি নিয়েছে।

বিরোধী জোট, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পাশাপাশি সিজেপিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর তত্ত্বাবধানে ভোটার তালিকার এমন সংশোধন হয়েছে, যা মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টিকে সুবিধা দিয়েছে এবং যার ফলে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। বিজেপি অবশ্য কোনও রকম হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ বছরের গোড়ায় অনলাইনে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের উদ্যোগ হিসেবে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে তা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা শক্তিশালী মোদী সরকারকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এ বছরের গ্রীষ্মে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতৃত্বে ধারাবাহিক বিক্ষোভের জেরেই মোদীর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সিজেপি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গত সপ্তাহান্তে ঘোষণা করেন, মোদী সরকার কিংবা জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানো যাবে না। দাস ও রাঙ্কার প্রতি সংহতি জানাতে মধ্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ডাক দেওয়ার পর শুক্রবার দিপকেকেও আটক করা হয়। তাঁর আহ্বান ছিল, সিজেপির সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়াবেন।

দিপকে বলেছিলেন, তাঁর সহযোদ্ধা ‘ককরোচ’ নেতারা মুক্তি পাওয়ার পরে তাঁরা “একত্র হব, নতুন করে কৌশল ঠিক করব এবং কী ভাবে এগোনো হবে, তা নির্ধারণ করব”।

দিপকে বলেন, “গত কয়েক দিনে যে বেআইনি গ্রেফতার ও আটকের ঘটনা আমরা দেখেছি, তা আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টারই ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু আমরা ভয় পেয়ে মাথা নোয়াব না, পিছিয়েও যাব না। এ এক দীর্ঘ লড়াই। আর আমরা তার জন্য প্রস্তুত।”