বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেতে দেরি হওয়ায় ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে—এমনই অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। রবিবার, ১১ অক্টোবর, পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে বারবার অনুরোধ করা হলেও তাঁকে সময়মতো ছাড়া হয়নি। দিল্লি পুলিশ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দিপকেকে মৃত্যুসংবাদ জানানোর পাশাপাশি বাড়ি ফেরার সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
দিপকের ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দিপকে শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। সন্তুক পিম্পরি গ্রামে তাঁর বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। রবিবার সকালে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরিবারের বক্তব্য, অভিজিতের আসার অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু রবিবার তিনি ছাড়া পেলেও ততক্ষণে শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকার মতো সময় আর ছিল না।
দিপকের কাকা বিলাস দিপকের অভিযোগ, ভাইপোকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি অন্তত দশবার পুলিশের কাছে হাতজোড় করে আবেদন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, পরিবার তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। তবুও যথাসময়ে মুক্তি মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি। বিলাস জানান, শেষকৃত্যে থাকতে না পারলেও অভিজিৎ অন্তত ঠাকুমার অস্থি সংগ্রহের সময়ে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। তাঁর বক্তব্যে শেষবারের মতো ঠাকুমাকে দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ স্পষ্ট।
অভিজিতের বাবা ভগবান দিপকেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, সময়মতো ছাড়া হলে ছেলে বাড়ি পৌঁছতে পারতেন। এমনকি শেষকৃত্যের পরে দিল্লিতে ফিরে আসার শর্ত দিয়েও তাঁকে মুক্তি দেওয়া যেত। পরিবারের এই শোকের সময়ে সেই সুযোগটুকু দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পরে ছেলের অনুপস্থিতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভগবান।
দিপকের মা অনিতা জানান, শনিবার রাতে মুম্বই থেকে হিঙ্গোলিতে পৌঁছনোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর ছেলের। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আগে ছেড়ে দিলে সেই যাত্রা সম্ভব হত। পরিবারের বিপর্যয়ের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন কিছুটা নমনীয় হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিজিৎকে শেষবার ঠাকুমার কাছে পৌঁছতে দেওয়াই তখন পরিবারের প্রধান আবেদন ছিল।
অন্যদিকে, রবিবার দেওয়া বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে দিপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। শেষকৃত্যের নির্ধারিত সময়ও তাঁকে জানানো হয়। পুলিশের দাবি, মানবিক কারণে নিজের শহরে পৌঁছনোর জন্য সমস্ত রকম সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দিপকে নিজেই সেই সহায়তা নিতে অস্বীকার করেন বলে তাদের বক্তব্য। ফলে মুক্তিতে দেরির অভিযোগ এবং যাতায়াতের সহায়তা প্রত্যাখ্যানের দাবি নিয়ে দুই পক্ষের বিবরণে বিরোধ রয়েছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন দিপকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। দিল্লিতে বিমান পৌঁছনোর পরে বিমানের ভিতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়। পরে তিনজনকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য, প্রক্রিয়াগত শর্ত এবং নয়াদিল্লি এলাকায় জারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। রবিবার সকালে তিন নেতাকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পরে মুক্তি দেওয়া হয়। সিজেপির আইনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রত্না সিংহের বক্তব্য অনুযায়ী, এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে তাঁদের ছাড়া হয়েছে। সংগঠন তাঁদের মুক্তিকে আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মুক্তির পরে পরিবারের কাছে যেতে মহারাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন দিপকে। তবে তাঁর স্বজনদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়ে গিয়েছে সময়ের প্রশ্ন: সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, তার পাশাপাশি কখন তাঁকে বাস্তবে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি এবং পরিবারের বক্তব্যের এই ফারাকই শেষকৃত্যে অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে জিইয়ে রেখেছে।