বাংলাস্ফিয়ার: সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের প্রস্তাবিত পদযাত্রার দিন দিল্লির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনো বন্ধ রাখার ঘোষণা করল দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন বা ডিএমআরসি। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকাল ছ’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কথা এক্সে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
যে ছয়টি স্টেশনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, সেগুলি হল পটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং বারাখাম্বা রোড। তবে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা চালু থাকবে বলে ডিএমআরসি স্পষ্ট করেছে। অর্থাৎ, যেখানে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে ট্রেন বদলের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে যাত্রীরা সেই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। বন্ধ থাকবে স্টেশনের বাইরে থেকে ঢোকা এবং স্টেশন থেকে রাস্তায় বেরোনোর পথ।
ডিএমআরসি জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। ফলে যাত্রীদের যাত্রাপথ ঠিক করার সময় সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষত যাঁদের গন্তব্য এই ছয় স্টেশনের আশপাশে, তাঁদের বিকল্প স্টেশন বা পরিবহণের ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখতে হবে। ঘোষণায় গোটা দিল্লি মেট্রো পরিষেবা বন্ধের কথা বলা হয়নি।
এই বিধিনিষেধের পটভূমিতে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আন্দোলন। কংগ্রেসের ডাকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন দলের নেতা ও সাংসদদের যোগ দেওয়ার কথা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
কথিত ‘ভোট চুরি’ নিয়ে উদ্বেগ জানাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তবে সেই সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, একই ধরনের বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকার কারণেই প্রধান বিচারপতি বৈঠকে সম্মত হননি।
নতুন মেট্রো বিধিনিষেধ এসেছে এমন সময়ে, যখন রবিবারের বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রেখেও গণপরিবহণের উপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। ফলে সোমবারের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার—দুই বিষয়ই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আগের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার আবেদনে কেন্দ্রকে নোটিসও দিয়েছে আদালত। অভিযোগের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না, বিশেষত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ নেই এমন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত মানুষকে। নাগরিকদের চলাচল ট্রাফিক বিধি সাপেক্ষে স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা না দেওয়ার কথাও জানিয়েছে আদালত। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের আদালতে পৌঁছনোর সুযোগ নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বোর্ড সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশও সোমবার সকাল ছ’টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ঘুরপথে পাঠানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সংযোগপথে যাতায়াত প্রভাবিত হতে পারে। যাত্রীদের দেরির সম্ভাবনা ধরে সফর পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেট্রোর প্রবেশপথে বিধিনিষেধ এবং সড়কে নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে থাকলে কর্মস্থল বা জরুরি গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
সোমবারের ঘোষণায় আপাতত বিকেল চারটে পর্যন্ত ছয় স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা পরিস্থিতির পর্যালোচনার উপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে ডিএমআরসি। তাই ওই সময়ের পরে যাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও কর্তৃপক্ষের নতুন ঘোষণা দেখে নেওয়াই যাত্রীদের জন্য জরুরি।