বাংলাস্ফিয়ারঃ নয়াদিল্লিতে ডিওয়াইএফআই নেতা ও কর্মীদের বেআইনিভাবে আটক, গোপনে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যসভার সাংসদ এ এ রহিম। সোমবার, ১২ অক্টোবর দায়ের করা আবেদনে সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আগের দিনের পুলিশি আচরণের স্বাধীন, আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি আকস্মিক বাড়াবাড়ি নয়; শারীরিক নির্যাতনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল।

আবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কনট প্লেসে শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ডিওয়াইএফআই সদস্যেরা। রহিমের অভিযোগ, দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ উর্দিধারী বাহিনী মহিলাদের-সহ বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সংগঠনের পদাধিকারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যেরাও ছিলেন।

সাংসদের দাবি, তাঁদের কোনও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। পরিবর্তে কনট প্লেসের কাছেই ‘দরিয়াগঞ্জ’ রেস্তরাঁর সামনে একটি ঘেরা, কড়া পাহারার জায়গায় বাসটি নিয়ে যাওয়া হয়। আবেদনে জায়গাটিকে জনসাধারণ ও সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টির আড়ালে এবং সিসিটিভিবিহীন বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও পুরুষদের আলাদা করে পাঁচটি পৃথক কুঠুরিবিশিষ্ট বিশেষ পুলিশভ্যানে তোলা হয়।

ওই গাড়ির ভিতরেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মুখে আঘাত, বুট দিয়ে মেরুদণ্ডে লাথি এবং মাথায় প্রহার করা হয়। কয়েকজন বাহিনীর সদস্যের পোশাকে নামের ব্যাজও ছিল না। রহিমের বক্তব্য, এই গাড়িগুলি কার্যত নথিবহির্ভূত চলমান আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার কোনও বালাই ছিল না।

এরপর বিক্ষোভকারীদের সুরজমল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। আবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে তাঁরা পৌঁছন দুপুর দুটো নাগাদ; মুক্তি পান সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। সাত ঘণ্টারও বেশি সময় আটক থাকার মধ্যে খাবার ও প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ। গ্রেপ্তারের কারণ জানানো বা গ্রেপ্তারের স্মারকলিপি তৈরিও হয়নি বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী।

পরিবার কিংবা বন্ধুদের খবর দেওয়া হয়নি, কোথায় রাখা হয়েছে তাও প্রকাশ করা হয়নি—এমন অভিযোগও রয়েছে। হেফাজতে চিকিৎসা পরীক্ষা কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তির পরে আহতেরা রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পরীক্ষার সময় সাদা পোশাকের পুলিশ উপস্থিত ছিল। ফলে চিকিৎসকদের কাছে নির্ভয়ে সব কথা বলা যায়নি বলে অভিযোগ।

রহিমের আবেদনে সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১ ও ২২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও হেফাজত সংক্রান্ত ডি কে বসু মামলার নির্দেশিকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর, ক্ষতিপূরণ এবং পুলিশি উপস্থিতি ছাড়া আহতদের স্বাধীন চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

তদন্তের প্রমাণ অক্ষত রাখতে কনট প্লেস ও রেস্তরাঁসংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ির জিপিএস তথ্য, যাতায়াতের নথি, বেতার যোগাযোগের রেকর্ড এবং কর্তব্যরত বাহিনীর তালিকা সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়েছেন সাংসদ। পাশাপাশি অভিযানে যুক্ত প্রত্যেকের নাম, পদ ও ইউনিট শনাক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যতে প্রতিবাদকারীদের আটকের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশিকাও চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট থানায় বা ঘোষিত আটকস্থলে নিয়ে যাওয়া, গাড়িতে সিসিটিভি, বাহিনীর দেহে ক্যামেরা, দৃশ্যমান পরিচয়চিহ্ন এবং আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। পর্দা টানা বা বন্ধ কুঠুরিযুক্ত গাড়িকে আটকস্থল হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবিও রয়েছে।

আবেদনে ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও স্মরণ করানো হয়েছে। সেই নির্দেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা এলাকার বাইরে শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে বেআইনি আটক এড়াতে বলা হয়েছিল। আবেদনকারীর বক্তব্য, প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের সময়ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও হেফাজতে নিরাপত্তার বিধান মানতে হবে; প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের আড়ালে নির্যাতন চলতে পারে না।

তবে এগুলি আবেদনকারীর অভিযোগ; আদালতের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়। উপলব্ধ প্রতিবেদনে এই অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জবাব পাওয়া যায়নি।