বাংলাস্ফিয়ারঃ দুর্গাপুজোর মধ্যে দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ১৭ অক্টোবর, শনিবার কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর। পরদিন বেলুড় মঠ এবং কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার চারটি পুজো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরসূচিতে রয়েছে বালির দেশবন্ধু ক্লাব, চেতলার ২৪ পল্লি, শোভাবাজার রাজবাড়ি এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। উৎসবের সময় বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি এই সফরের প্রধান আকর্ষণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত সফরসূচিতে শনিবার রাত আটটা নাগাদ আমদাবাদ থেকে শাহের কলকাতা বিমানবন্দরে নামার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন আলিপুরের সরকারি অতিথিশালা ‘সৌজন্য’-এ। সেখানেই রাত্রিবাস করবেন। রবিবারের কর্মসূচির শুরুতে তিনি বেলুড় মঠে যাবেন। মঠে প্রায় আধঘণ্টা থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। তার পরে হাওড়ার বালিতে দেশবন্ধু ক্লাবের দুর্গাপুজো দেখতে যাওয়ার কথা তাঁর।
সকালের পরিদর্শন শেষে সৌজন্যে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন শাহ। খবর অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়ে চেতলার ২৪ পল্লির পুজোমণ্ডপে যাবেন তিনি। সেখান থেকে শোভাবাজার রাজবাড়ি এবং তার পরে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একই সফরে হাওড়ার পুজো, দক্ষিণ কলকাতার সর্বজনীন আয়োজন, উত্তর কলকাতার রাজবাড়ি এবং শহর সংলগ্ন বড় মণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে পুজোর ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে তাঁর।
পুজো পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শাহের সঙ্গে থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। রবিবারই কলকাতা থেকে দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টে ৫ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সফর দু’দিনের হলেও পুজো পরিদর্শনের মূল কর্মসূচি রবিবারের মধ্যেই সেরে ফেলার কথা।
এই সফরের আগে মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তাঁদের দু’জনকেই রাজ্য সরকারের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কেউই সেই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। এ বার পুজোর মধ্যেই শাহের বঙ্গসফরের পরিকল্পনা সামনে এল। প্রতিবেদনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বেলুড় মঠের পুজোর নিজস্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মঠের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে ১৯০১ সালে সেখানে প্রথম প্রতিমায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের আগে সারদা দেবীর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। তিনি পুজোয় উপস্থিতও ছিলেন। সেই সূত্রেই বেলুড়ের দুর্গোৎসবের সঙ্গে বিবেকানন্দ ও সারদা দেবীর স্মৃতি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কুমারীপুজোও এই ঐতিহ্যের একটি বিশেষ অঙ্গ। সারদা দেবীর নির্দেশ মেনে মঠের পুজোয় পশুবলি দেওয়া হয় না। ফলে বেলুড় মঠে শাহের যাত্রা এমন এক পুজোর পরিসরে, যার পরিচিতি তার ধর্মীয় আচার এবং প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। মঠের ঐতিহ্যে আগমনী গানও স্থান পায়। মহালয়ার পরে প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত ভোরে সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরা আগমনী গেয়ে দেবীর আগমনকে স্বাগত জানান। এভাবেই পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হয় সংগীত।
গত বছরও দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। তখন তিনি সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এবং সল্টলেকের পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন। এবারের প্রকাশিত তালিকায় জায়গা পেয়েছে অন্য কয়েকটি পুজো। সেই তুলনায় এ বছরের সফরে মঠ, রাজবাড়ি ও সর্বজনীন মণ্ডপের সমন্বয় চোখে পড়ছে।
সফরসূচির এই বিন্যাস থেকে বোঝা যায়, বাংলার পুজোর একাধিক ধারার সঙ্গে দৃশ্যমান সংযোগ তৈরি করাই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতির পাশাপাশি এই ধরনের সফরের জনসংযোগমূল্যও রয়েছে। তবে সেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণের বিষয়; প্রকাশিত কর্মসূচির নির্দিষ্ট তথ্য হল, শনিবার আগমন এবং রবিবার বেলুড় মঠ ও পুজো পরিদর্শনের পরে দিল্লি প্রত্যাবর্তন। চূড়ান্ত সময় ও যাত্রাক্রমে পরিবর্তন হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট হবে।