বাংলাস্ফিয়ারঃ নয়াদিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসে বিক্ষোভের পর নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনসংক্রান্ত পোস্ট ও ভিডিও ঘিরে অন্তত ১৭টি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে রাস্তায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে অনলাইন প্রচারের উপরও পুলিশের নজরদারি বিস্তৃত হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ও পালিকা বাজারের আশপাশে জমায়েত থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। তবে সব মিলিয়ে কতগুলি এফআইআর হয়েছে এবং কোন কোন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, তার সম্পূর্ণ বিবরণ পুলিশ প্রকাশ করেনি।
সমাজমাধ্যমে পদক্ষেপের বিষয়ে পুলিশ সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের দৃশ্য, আপত্তিকর ভাষা এবং অবমাননাকর মন্তব্যসংবলিত পোস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু ভিডিও ও রিল ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি বা বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। পুলিশের বক্তব্য, মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্য ছিল। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে।
এক্সে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির নথিভুক্তির তথ্য, ব্যবহারকারীদের নাম, ফোন নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা অনলাইন পোস্ট ও ভিডিও পরীক্ষা করে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে পুলিশের অভিযোগকে ভিডিওগুলির অসত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; কোন ভিডিও কীভাবে বিকৃত, তা তদন্তে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
অন্যদিকে, অশান্তি তৈরির অভিযোগে গাজিয়াবাদের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তাঁদের নাম শিবম ও গৌরব। পুলিশের দাবি, তাঁদের লাঠি হাতে গাড়ি থেকে নামতে দেখা গিয়েছিল। রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের কাছে এক বিক্ষোভকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যকে চড় মারছেন বলে দাবি করা একটি ভিডিওও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মিছিলের আগেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নোটিস দিয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি করা যাবে না। পুলিশের যুক্তি, কনট প্লেস বিজ্ঞাপিত প্রতিবাদস্থল নয়; সেখানে ব্যবসা, যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের চাপ অত্যন্ত বেশি। প্রবেশ ও বেরোনোর সীমিত পথের মধ্যে জমায়েত হলে ভিড় সরানো কঠিন হতে পারে। সরু রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি কর্মসূচিতে অনুমতির শর্ত ভাঙা হয়েছিল। তবে বর্তমান মামলাগুলিতে প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।
শুক্রবার মিছিলের আগে করোল বাগ থেকে দীপকেকে আটক করা হয়। আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও মণ্ডি হাউস থেকে মিছিল শুরুর পর আটক করা হয়েছিল। তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজেপি ও আইসা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং তৃণমূলের নেতারা তখন তাঁদের মুক্তির দাবি জানান। বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও প্রায় দু’হাজার মানুষ জাতীয় পতাকা নিয়ে কর্মসূচিতে পৌঁছেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নিউ দিল্লি জেলা ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন ছিল পঁচিশ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসেনা। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী আবার ব্যবসায় ক্ষতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী জমায়েত সরিয়ে দেয়। কয়েকটি দোকান ও রেস্তরাঁ বন্ধ ছিল। আটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল সেখানে। সব মিলিয়ে প্রতিবাদের অধিকার, জনপরিসরের ব্যবহার এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।