বাংলাস্ফিয়ার: যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও অভিষেক রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর তাঁদের সমর্থনে সরব হলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতাও এই গ্রেফতারের নিন্দা করেছেন।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর এক্সে রাহুল লেখেন, “যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তেরঙ্গা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। তার জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষের কাজ। ছাত্রছাত্রী। তরুণ প্রজন্ম। সাংবাদিক। ইন্ডিয়া জোট। পতাকা আলাদা, দাবি এক। সব প্রতিবাদই এক: নাগরিকেরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার চাইছেন। যন্তর মন্তর ভারতের মানুষের। আমরা তা পুনরুদ্ধার করব।”
সিজেপিকে নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানে এই পোস্ট একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মে মাসে সমাজমাধ্যমের একটি প্রবণতা থেকে সিজেপির উত্থান। জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে ১৭ দিনের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা। কিন্তু গোড়ার দিকে প্রধান বিরোধী দলের ভিতর থেকেই সিজেপি সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল।
সিজেপি যখন ক্রমশ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছিল, তখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা তাদের বিষয়ে কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখেছিলেন। কংগ্রেস বরং জোর দিচ্ছিল এই বক্তব্যে যে, সিজেপির অনেক আগে থেকেই তারা ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ এবং ‘ভোট চুরি’ অভিযানের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন করছে।
গত ১০ অক্টোবর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচি থেকে দূরে ছিল কংগ্রেস। বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কাড়ে, কারণ তার আগের কয়েক দিন প্রধান বিরোধী দল এবং তার শরিকেরা পরপর পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল।
অন্যদিকে, ১২ অক্টোবর বিরোধীরা যখন মিছিল করে, তখন সিজেপি তাতে যোগ দেয়নি। একই দাবিতে পৃথক আন্দোলনের ধারায় যুক্ত হয় আরও একটি ঘটনা।
কিন্তু মঙ্গলবার পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে। ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “আমরা এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছি। কোনও সমান্তরাল আন্দোলন নেই, আন্দোলন একটাই।”
কংগ্রেসের সূত্রগুলি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, সিজেপির প্রতি সংহতি জানিয়ে রাহুলের পোস্টকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলনের আহ্বানের প্রেক্ষিতেই দেখতে হবে।
একটি সূত্রের বক্তব্য, “রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই বলেছেন, সবটাই এক আন্দোলন। ফলে সিজেপির লোকজন গ্রেফতার হলে তিনি প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তাঁর আহ্বান খুব স্পষ্ট—সব আন্দোলন এক, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে।”
ওই সূত্র আরও জানায়, “তিনি নাগরিক সমাজের সমস্ত সদস্য এবং ছাত্রনেতাদের একসঙ্গে আসতে বলেছেন। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেউ গ্রেফতার হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো রাহুলের দায়িত্ব।”
রাহুল ছাড়াও সিজেপি নেতাদের সমর্থনে সরব হয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে লেখেন, “যাঁরা নিজেদের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী বলে দাবি করেন, তাঁরাই এখন নিজের দেশে তেরঙ্গা উত্তোলন ও ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই কাজ নাকি শান্তিভঙ্গের শামিল। বিজেপির নতুন ‘পাকিস্তানীকৃত ভারত’-এ আপনাদের স্বাগত।”
সিপিআইএমএলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “যন্তর মন্তর মানুষের। গোটা বিশ্ব জানে, এটি দিল্লির অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল।” সিজেপি নেতাদের হেফাজতে পাঠানোকে তিনি “হাস্যকর শাস্তি” বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারত এই স্বেচ্ছাচারী আদেশ মেনে নেবে না। যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধার করুন।”
প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের পর জায়গাটি ‘পুনরুদ্ধার’-এর ডাক দিয়েছেন বিরোধীরা। সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের এই প্রতিবাদ সেই আহ্বানের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।