বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লিতে গ্রেফতার ককরোচ জনতা পার্টির দুই কর্মী আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পাশে দাঁড়ালেন ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর, সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিনিধিত্ব ও সহায়তা দিতে তাঁর দল প্রস্তুত। যন্তরমন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার এবং প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়ার মধ্যেই স্ট্যালিনের এই ঘোষণা।
এক্সে দেওয়া বার্তায় স্ট্যালিন লেখেন, “আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের প্রতি সংহতি। তাঁদের প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব ও সহায়তা দিতে ডিএমকে প্রস্তুত।” তাঁর বক্তব্যে গ্রেফতার হওয়া তরুণদের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধের অভিযোগও উঠে এসেছে। আন্দোলনকারীদের আটক করে সরকার কত দূর এগোতে পারবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ডিএমকে সভাপতি।
স্ট্যালিনের যুক্তি, যত বেশি তরুণকে জেলে পাঠানো হবে, তত বেশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে যোগ দেবেন। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন নাগরিকেরাও রাস্তায় নামবেন এবং সরকারকে জনশক্তির পরিচয় দেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, দমনমূলক ব্যবস্থা প্রতিবাদকে স্তব্ধ করার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত জনসমর্থনের জন্ম দিতে পারে।
সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আটক অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের জায়গা পুনরুদ্ধারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। তার আগেই ওই স্থানকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি পদক্ষেপের পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, বন্ডের শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, সিজেপির দাবি, জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্যই তাঁদের নেতাদের নিশানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, যন্তরমন্তরে তেরঙ্গা ওড়ানোই সৌরভ ও আশুতোষের অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এর আগেও সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করা হয়েছিল। চব্বিশ ঘণ্টা আটকের পর ১১ অক্টোবর তাঁদের এবং সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে মুক্তি দেওয়া হয়। শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ এসেছিল। তবে দিপকে দাবি করেছিলেন, আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও বন্ডে তাঁরা সই করেননি। গ্রেফতারের ফলে বিরোধ এবং বন্ডের শর্তের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
গ্রেফতার-পরবর্তী আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রত্না সিংহ। তাঁর অভিযোগ, আটক নেতাদের গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্ট্যালিনের প্রস্তাব তাঁদের আদালতের লড়াইয়ে সহায়তার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যদিও সেই সহযোগিতার বাস্তব রূপ এখনও প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট নয়।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও এই ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ হতে পারে না। ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলনকে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের বৃহত্তর দাবির সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি। যন্তরমন্তর মানুষের প্রতিবাদের পরিসর হিসেবেই থাকা উচিত বলে দাবি তুলেছেন।
অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং আদিত্য ঠাকরেও গ্রেফতারের সমালোচনা করেছেন। নিজেদের দেশে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনকে ঘিরে এমন পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ফলে ঘটনাটি দুই আন্দোলনকারীর হেফাজতের বাইরে গিয়ে রাজধানীতে প্রতিবাদের সুযোগ এবং সরকারের বিরোধিতা করার অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
স্ট্যালিনের ঘোষণায় সেই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হল সরাসরি আইনি সহযোগিতার প্রস্তাব। পুলিশের অভিযোগের মোকাবিলা এবং আটক কর্মীদের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রে এই সহায়তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে ঘোষণার পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন দেখার। আপাতত ডিএমকের বার্তা স্পষ্ট: গ্রেফতার হওয়া দুই কর্মীর পাশে রাজনৈতিকভাবে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের আইনি লড়াইয়েও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত দল।