বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক রাখা এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে নোটিস পাঠানোর ঘটনায় বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের (এসইএম) ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শান্তিভঙ্গ রুখতে এসইএমরা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। তবে তাঁরা মামলার বিচার করতে পারেন না। এই ক্ষমতা কী ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আদালত বারবার প্রশ্ন তুলেছে। নির্ধারিত পদ্ধতি লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর তার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে যন্তর মন্তরে ঢোকার অভিযোগে ১৪ অক্টোবর রাঙ্কা ও দাসকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার এক এসইএম তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ান। এর ফলে মোট হেফাজতের মেয়াদ হয় সাত দিন।

দিল্লি পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিক তথা এসইএম ঋতু রাজের স্বাক্ষর করা নির্দেশে বলা হয়, রাঙ্কা ও দাসের আচরণে ‘আস্থা’ রাখা যাচ্ছে না, তাঁদের ‘আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই’ এবং বিক্ষোভস্থল হিসাবে সরকারি স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন একটি জায়গায় তাঁরা অভ্যাসগত ভাবে প্রতিবাদের ডাক দিয়ে চলেছেন। নিয়ে যাওয়ার সময় দাস এসইএমের এজলাসকে ‘পুলিশের আদালত’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, ‘এখানে ন্যায়বিচার নেই।’

অন্য দিকে, আর এক এসইএম মহেশ কুমার মীনার জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেছেন নেহা। ‘শান্তিভঙ্গের’ আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ওই নোটিসে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁকে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিতে বলা হবে না।

এসইএম কারা? বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য কোথায়?

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করেন না। তাঁদের পদোন্নতি, বেতনবৃদ্ধি এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ভর করে শাসনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর।

প্রথাগত ভাবে রাজস্ব বা প্রশাসনিক আধিকারিকরাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। দেশের রাজধানীতে দিল্লি পুলিশ আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ কমিশনার এবং তাঁর অধীনস্থ এসিপি বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিকদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দিতে পারে।

এসইএমদের ক্ষমতা সীমিত। মূলত জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে তা সম্পর্কিত।

অন্য দিকে, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচারবিভাগের, অর্থাৎ হাই কোর্টের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাঁরা মামলার বিচার করতে পারেন।

বিভিন্ন সময়ে আইন কমিশনের রিপোর্টে বিচারবিভাগীয় ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতার পরিধি পরীক্ষা করা হয়েছে। সদাচরণের মুচলেকা চাওয়া বা প্রতিরোধমূলক কার্যধারা শুরু করার ক্ষমতা শাসনবিভাগের হাতে থাকবে, না বিচারবিভাগের হাতে—সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

আগের রিপোর্টগুলি এই ক্ষমতা শাসনবিভাগের হাতে রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৬৯ সালে আইন কমিশনের ৪১তম রিপোর্টে যুক্তি দেওয়া হয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতাকে প্রভাবিত করে। তাই এই ক্ষমতা একমাত্র বিচারবিভাগের হাতেই থাকা উচিত এবং তা প্রয়োগ করা উচিত বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে।

২০১৮ সালে দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার-সংক্রান্ত বিধানে এক দফায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হতে পারবে না। আদালত আরও জানায়, ‘আটক রাখার প্রয়োজন এখনও রয়েছে কি না, এসইএমদের প্রতি সপ্তাহে তা পর্যালোচনা করতে হবে।’

প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার: শিকড় চতুর্দশ শতাব্দীর আইনে

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় (বিএনএসএস) প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার এবং শান্তি বজায় রাখা বা সদাচরণের নিশ্চয়তা আদায়ের যে বিধান রয়েছে, তার শিকড় ঔপনিবেশিক আইনি ব্যবস্থারও বহু আগে—মধ্যযুগের শেষ পর্বে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাশ হওয়া ১৩৬১ সালের ‘জাস্টিসেস অব পিস অ্যাক্ট’-এ।

এই আইনে ‘জাস্টিস অব পিস’ নামে পরিচিত আধিকারিকদের ‘শান্তিভঙ্গ’ প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা ‘অপরাধী, দাঙ্গাকারী এবং অন্য সব বিবাদ-সৃষ্টিকারীকে’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন অথবা সদাচরণ নিশ্চিত করতে তাঁদের জামিনদার দেওয়ার শর্তে বাঁধতে পারতেন। তাঁদের ভূমিকার সঙ্গে বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকার কিছু মিল ছিল।

পরে ১৮৬১ সালে ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধির কাঠামোয় এই বিধানগুলি জায়গা পায়। স্বাধীনতার পরেও ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসিতে সেগুলি বহাল থাকে। পরে তা বিএনএসএসেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৩ সালে প্রণীত বিএনএসএস ২০২৪ সালের ১ জুলাই কার্যকর হয় এবং সিআরপিসির জায়গা নেয়।

তিন দশকের ব্যবধানেও একই অনিয়ম দেখেছে দিল্লি হাই কোর্ট

১৯৮৪ সালে তিহাড় জেল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি সুনীল বাত্রার একটি আবেদন পায় দিল্লি হাই কোর্ট। সেখানে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারের বিধানের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।

আবেদনে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত পদ্ধতি না মেনে ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারায় পুলিশ বিপুল সংখ্যক মানুষকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করছে’ এবং জামিনে মুক্তির সুযোগ না দিয়ে তাঁদের জেলে রাখা হচ্ছে।

সেই সময়ে আদালত আক্ষেপ করে বলেছিল, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের পৃথক অবস্থানকে অস্পষ্ট করে ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগকারী পুলিশ আধিকারিকদের হাতে’ যখন নাগরিকের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন ‘এমন একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপের অনিবার্য পরিণতি দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছু আছে কি?’

আদালত দেখেছিল, এসইএমরা সাইক্লোস্টাইল করা, অর্থাৎ একই ছকে আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ব্যবহার করছেন। আরও নানা পদ্ধতিগত অনিয়মও ধরা পড়ে। রায়ে আদালত নির্দেশ দেয়, কেন কোনও ব্যক্তিকে মুচলেকা দিতে বলা হচ্ছে, সেই কারণ তাঁকে জানাতে হবে। জামিনদার দিতে না পারায় কাউকে জেলে পাঠানো হলে, জেলে পাঠানোর পরোয়ানার সঙ্গে এসইএমের নির্দেশও থাকতে হবে।

তিরিশ বছরেরও বেশি সময় পরে, ২০১৮ সালে বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি বিনোদ গোয়েলের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, সুনীল বাত্রার মামলার নিষ্পত্তির পর থেকে ‘বিশেষ কিছুই বদলায়নি বলে মনে হচ্ছে’। বেঞ্চ জানায়, ২০১৮ সালেও সেই একই ছকে ছাপানো ফর্মের ব্যবহার চলছিল।

এসইএমদের কঠোর ভাবে মেনে চলার জন্য ডিভিশন বেঞ্চ আবারও পদ্ধতিগত নির্দেশ জারি করে।

২০১৮ সালের নির্দেশ: নজরদারির প্রস্তাব, পক্ষপাত নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার দেখে আদালত দিল্লির উপরাজ্যপালকে একটি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলে। এসইএমরা কী ভাবে তাঁদের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই ব্যবস্থা তা পর্যালোচনা করবে। আদালতের প্রস্তাব ছিল, অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারকদেরও এই ব্যবস্থায় যুক্ত করা যেতে পারে।

আদালত আরও প্রস্তাব দেয়, এই আধিকারিকদের ‘স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট’ না বলে ‘স্পেশাল এক্সিকিউটিভ অফিসার’ বলা যায় কি না, উপরাজ্যপাল তা বিবেচনা করুন। কারণ, ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ শব্দটি শুনে সাধারণ মানুষ তাঁদের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বলে ভুল করতে পারেন।

এখনও পর্যন্ত এই প্রস্তাব কার্যকর হয়েছে বলে মনে হয় না।

প্রতিরোধমূলক বিধানে আটক ব্যক্তিদের জন্য জেলের ভিতরে আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও উপরাজ্যপালকে বিবেচনা করতে বলেছিল আদালত। উদ্দেশ্য ছিল, কোনও অপরাধ করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যাতে তাঁদের রাখা না হয়।

হাই কোর্ট আরও দেখেছিল, এই ক্ষমতা প্রয়োগে ‘স্পষ্ট পক্ষপাত’ রয়েছে। কারণ, ‘বন্দিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের’।

২০১৮ সালে দিল্লি হাই কোর্ট মন্তব্য করেছিল, ‘এটা স্পষ্ট যে, তাঁদের অনেকেই সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল অংশের মানুষ এবং প্রয়োজনীয় জামিনদার দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। ব্যক্তিগত মুচলেকায় তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দিতে এই আদালতকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে জারি হওয়া স্থায়ী নির্দেশ এবং আগে উল্লিখিত অসংখ্য রায় সত্ত্বেও উল্লিখিত ক্ষমতাগুলির ব্যাপক ও নির্বিচার ব্যবহার হচ্ছে।’

অন্য আদালতও পদ্ধতিগত সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে

সুপ্রিম কোর্ট এবং একাধিক হাই কোর্টও ‘সিআরপিসির ১০৭, ১১৬ ও ১৫১ ধারার অপব্যবহার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০০৭ সালে দিল্লি হাই কোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের একটি রায়ের অবস্থান সমর্থন করে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ‘সিআরপিসির ১০৭/১১৬/১৫১ ধারায় কোনও কার্যধারা শুরু করার আগে তদন্তকারী আধিকারিক বা সাক্ষীর বক্তব্য নথিবদ্ধ করার ওপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জোর দেওয়া উচিত।’

রায়ে আরও নির্দেশ ছিল, তদন্তকারী আধিকারিক বা সাক্ষীদের বক্তব্য নথিবদ্ধ না হয়ে থাকলে, জামিনদার দিতে না পারার কারণে কোনও আটক ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলে পাঠাতে পারবেন না। আগে থেকে একই ছকে ছাপানো কাগজে যান্ত্রিক ভাবে স্বাক্ষর করাও চলবে না। নির্দেশ হতে হবে বিস্তারিত এবং যথাযথ যুক্তিসমর্থিত।

নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনেও উঠেছিল একই প্রশ্ন

২০০৭ সালের জুলাইয়ে মধ্যপ্রদেশে সর্দার সরোবর বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে সমাজকর্মী মেধা পাটকর-সহ আরও ২৫ জন মহিলা এবং ৯৫ জন পুরুষ গ্রেফতার হন। শান্তিভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগে সিআরপিসির ১৫১ ধারায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর কয়েক জন পুরুষকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়। পাটকর-সহ বাকিরা এই মুচলেকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের জেলে পাঠানো হয়।

২০০৮ সালে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট রায় দেয়, রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছিলেন যে প্রতিবাদকারীরা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সেখান থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

আদালত আরও বলেছিল, ‘তাঁরা জনসাধারণের শান্তি, সামাজিক শান্তি বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন—এমন আশঙ্কা করার মতোও কোনও কাজ করেননি।’ সেই অবস্থায় তাঁদের কাছে মুচলেকা চাওয়া এবং তা দিতে অস্বীকার করায় আরও আটক রাখা ‘সম্পূর্ণ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ এবং তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

যাঁদের অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে হেফাজতে রাখা হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয় আদালত। প্রয়োজনে দায়ী আধিকারিকদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করার কথাও বলা হয়।