শেয়ারবাজারের নিয়মনীতি পালনে বড়সড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিল ভারতীয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (SEBI)। সমস্ত স্টকব্রোকারদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোর বা জটিল কমপ্লায়েন্স নীতি প্রয়োগ না করে, ব্রোকারেজ হাউসগুলির ব্যবসার আকার (Scale) এবং ক্লায়েন্ট এক্সপোজার বা ঝুঁকির মাত্রা (Client Exposure) অনুযায়ী একটি পৃথক 'গ্রেডেড কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক' (Graded Compliance Framework) চালু করার পরিকল্পনা করছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেবি চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

বর্তমানে ভারতীয় পুঁজিবাজারে ছোট ও নতুন ব্রোকারেজ ফার্মগুলোকেও বড় হেভিওয়েট ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মতোই সমপরিমাণ আইনি জটিলতা, কড়া কমপ্লায়েন্স এবং প্রশাসনিক শর্তাবলী মেনে চলতে হয়। এর ফলে ছোট ব্রোকারদের ওপর মূলধন পরিচালনা ও আইনি খরচ বাবদ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়, যা প্রায়শই তাদের ব্যবসায়িক বৃদ্ধির গতিকে মন্থর করে দেয়। সেবির এই নয়া অনুভাবনা কার্যকর হলে ব্রোকারদের মূল ঝুঁকি ও ক্লায়েন্ট ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে নিয়মনীতি নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, যাদের ঝুঁকির পরিধি বা ক্লায়েন্ট এক্সপোজার কম, তাদের তুলনামূলক সহজ ও শিথিল নিয়মনীতি মানতে হবে; অন্যদিকে বড় এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাখা হবে নিখুঁত ও কড়া নজরদারির আওতায়।

বাজার বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, সেবির এই ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপে ভারতীয় স্টক ইকোসিস্টেম বহুগুণ লাভবান হবে। একদিকে ছোট ব্রোকারদের অহেতুক অপারেশনাল জটিলতা কমবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে; অন্যদিকে সিকিউরিটিজ বোর্ডও তাদের প্রাথমিক ফোকাস ও নজরদারি বজায় রাখতে পারবে তুলনামূলক বড় ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং সিস্টেমের ওপর। মোটের ওপর, বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত রেখে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে সহজ বা 'ইজ অফ ডুইং বিজনেস' (Ease of Doing Business) জোরদার করাই সেবি প্রধানের এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য।