সৎ, নীতিনিষ্ঠ বেকারির মালিকের চরিত্রে গুলশন দেবাইয়া এবং স্বামী-সন্তানের পাশে থাকা স্ত্রী ও মায়ের ভূমিকায় রসিকা দুগল যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁদের খুঁটিনাটি ঝগড়াঝাঁটি দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার মতো নয়।
বাবা-মায়ের জীবনের বড় সমস্যাগুলি সম্পর্কে কিছুই জানে না ছোট্ট টমাস (হৃদাংশ পারেখ)। সে ব্যস্ত নিজের বহু কাঙ্ক্ষিত ছোট্ট ভাই বা বোন পাওয়ার ছক কষতে। এই পরিকল্পনায় তার সঙ্গী স্কুলের দুই বন্ধু নাইজেল (হৃদ্যাংশ গোকানি) ও মূর্তি (নিনাদ পণ্ডিত), আর ঠাকুমার মতো স্নেহময়ী এক বৃদ্ধা (মহাবানু মোডি-কোটওয়াল)।
শিশুরা কোথা থেকে আসে? এই চিরন্তন প্রশ্নের সামনে ছবির সমস্ত বড় মানুষের মুখে কুলুপ এঁটে যায়। কিন্তু বাচ্চাদের মুখে কথার খই ফোটে। এতটাই যে, একটা সময়ে মনে হয়, তারা সবাই কেবল সংলাপ আউড়ে চলেছে। বিষয়টা বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এ যেন শিশুদের স্বাভাবিক কথাবার্তা নয়; বরং ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মহড়া দেওয়া সংলাপ বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আফসোস হয়, কারণ খুদে অভিনেতারা প্রত্যেকেই ভাল। টমাসের বাবা-মায়ের কথাবার্তাতেও সেই একই আড়ষ্টতা। বেকারির মালিকের ভূমিকায় দেবাইয়া এতটাই সৎ ও নীতিনিষ্ঠ যে, সদ্য কেনা ফ্রিজে পানীয় ঠান্ডা করে দেওয়ার জন্যও বাড়তি এক টাকা নিতে রাজি নন। অন্যদিকে, স্বামী ও সন্তানের পাশে থাকা স্ত্রী এবং মায়ের ভূমিকায় দুগলও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁদের ঝগড়াঝাঁটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না।
এই পরিচালকের আবহ নির্মাণে দক্ষ স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘মিনিয়েচারিস্ট অব জুনাগড়’ দেখার পরে আরও পরিণত একটি কাজ আশা করেছিলাম। আগের ছবিটি এখনও না দেখে থাকলে দেখে নিন।
অভিনয়ে: গুলশন দেবাইয়া, রসিকা দুগল, হৃদাংশ পারেখ, হৃদ্যাংশ গোকানি, নিনাদ পণ্ডিত ও মহাবানু মোডি-কোটওয়াল।
পরিচালনা: কৌশল ওজা।
মূল্যায়ন: ২ তারা।