বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বইয়ের দুর্গাপুজোমণ্ডপে মেয়ে শ্বেতাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হলেন জয়া বচ্চন। সেখানে কাজলকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। উৎসবে যোগ দিলেন কাজলের দুই সন্তান নায়সা ও যুগও।
শনিবার মুম্বইয়ের নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে একত্র হলেন কাজল, জয়া বচ্চন, শ্বেতা বচ্চন এবং তানিশা মুখোপাধ্যায়। জয়ার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে শ্বেতা। অন্য দিকে, কাজল এসেছিলেন মেয়ে নায়সা ও ছেলে যুগকে নিয়ে। পুজোর বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কাজল ও তানিশাকে সস্নেহে আলিঙ্গন করছেন জয়া। পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়-সহ চলচ্চিত্রজগতের আরও বেশ কয়েকটি পরিচিত মুখও উপস্থিত ছিলেন।
নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজো মুখোপাধ্যায় পরিবারের বার্ষিক ঐতিহ্যের অঙ্গ। দুর্গার আরাধনায় প্রতি বছর এখানে একত্র হন পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব এবং চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ। এ বছর এই পুজোর ৮০তম আয়োজন। সপ্তাহের গোড়ায় উৎসবের সূচনাতেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল কাজল, তাঁর মা তনুজা এবং বোন তানিশাকে।
পুজোমণ্ডপে জয়ার পরনে ছিল ঘিয়ে রঙের শাড়ি। মেয়ে শ্বেতাকে নিয়ে এসে তিনি কাজল ও তানিশাকে জড়িয়ে ধরেন। কাজল, পরিচালক অয়ন এবং অন্যদের সঙ্গে ছবিও তোলেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। অন্য দিকে, দুর্গাপ্রতিমার সামনে নায়সা ও যুগকে নিয়ে ছবি তোলেন কাজল।
বহু বছর ধরেই মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজোয় নিয়মিত আসেন জয়া। এই পুজো বৃহত্তর পরিবারের সদস্য এবং চলচ্চিত্রজগতের তাঁদের বন্ধুদের মিলনক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।
কাজলের তুতো বোন, অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ও এই মণ্ডপের নিয়মিত দর্শনার্থী। তবে সেপ্টেম্বরে তাঁর মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে এ বছরের পুজোয় এখনও পর্যন্ত রানিকে দেখা যায়নি।
কাজলের পরনে ছিল কমলার আভাযুক্ত সর্ষে-হলুদ শাড়ি, যার পাড়ে ছিল জমকালো জরির কাজ। সঙ্গে সোনালি ডোরাকাটা ব্লাউজ এবং সোনার ঝুমকো। নায়সা বেছে নিয়েছিলেন হালকা নীল রেশমের শাড়ি। যুগের পরনে ছিল হালকা নীল ও সাদা কুর্তা-পাজামা। ছেলের সঙ্গে কাজলের স্নেহময় একটি মুহূর্তও অনলাইনে অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।
পুজো শুরুর আগে মণ্ডপের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যম এবং দর্শনার্থীদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তানিশা। এ বছর প্রচুর মানুষের সমাগম হবে ধরে নিয়েই মুম্বইয়ের এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সকলকে ভিড়ের মধ্যে পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ করেন।
তানিশা বলেন, “এ বার অনেক বেশি মানুষ আসবেন। তাই সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ, সকলের কাছেই আমার অনুরোধ, দয়া করে একে অন্যের খেয়াল রাখুন। মানবিকতার কথা ভুলে যাবেন না। আবারও বলছি, মানবিকতার কথা ভুলে যাবেন না। বিশেষ করে মণ্ডপে ঢোকার সময়ে অনেকে ধাক্কাধাক্কি করেন। তাই একটু সাবধানে থাকুন এবং পরস্পরের খেয়াল রাখুন।”
পাপারাৎজিদের উদ্দেশেও হালকা মেজাজে একটি বার্তা দেন তানিশা। পুজোর সময়ে জয়া বচ্চনকে উসকানি না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “এ বার আমাদের জয়া আন্টিকে বিরক্ত করবেন না। আপনারা ওঁকে খুব বিরক্ত করছেন; দয়া করে আর করবেন না। আপনারা খুব দুষ্টু। আপনাদের কয়েক জন আলোকচিত্রী ইচ্ছে করেই গিয়ে ওঁকে খোঁচান। দয়া করে আমাদের পুজোয় এমনটা করবেন না।”
তানিশার বক্তব্যের ইঙ্গিত ছিল সেই সব আলোকচিত্রীর দিকে, যাঁরা তাঁর মতে ইচ্ছাকৃত ভাবে জয়াকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। পরিবারের দুর্গাপুজোর উৎসবে এমন আচরণ এড়িয়ে চলার আবেদন জানান তিনি।