জাপানের সংসদ ভবনের উপহারের দোকানে এখন রমরমিয়ে বিকোচ্ছে ‘সানায়ে-চান’ স্মারকসামগ্রী। চকোলেট বিস্কুট, দাঙ্গো মিষ্টি, স্টিকার থেকে নথি রাখার ফাইল—সবেতেই দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মুখ। সঙ্গে স্লোগান, ‘জাপান ফিরে এসেছে’।

দোকানের এক কর্মীর কথায়, “তাকাইচিকে নিয়ে তৈরি জিনিসপত্র অসম্ভব জনপ্রিয়।”

জাপানের পুরুষপ্রধান রাজনীতির চেনা ছক ভেঙে ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্ণ করছেন তাকাইচি। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে যাঁরা মনে করেছিলেন, তাঁদের ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন এই রক্ষণশীল নেত্রী। বরং নিজের স্পষ্টবক্তা ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে শুধু ভোটারদের মন জয়ই করেননি, সংকটে থাকা লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)-কেও নির্বাচনে বিপুল জয় এনে দিয়েছেন। তাইওয়ান প্রশ্নে চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধেও পিছু না হটে সমর্থন আদায় করেছেন তিনি।

নিউ ইয়র্কের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো শিলা এ স্মিথের কথায়, “তাকাইচির সরাসরি কথা বলার ধরন তাঁর সম্পদ হয়ে উঠেছে… বিশেষ করে কূটনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে।”

তবে জনপ্রিয়তার ছবিতে এ বার কিছুটা ফাটল ধরেছে। সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় তাকাইচির প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে, যা দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বনিম্ন। তবু জাপানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সমর্থন উল্লেখযোগ্য। অতীতে যে ৩০ শতাংশ সমর্থনের সীমাকে একাধিক সরকারের পতনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়েছে, তার থেকে এখনও অনেকটাই উপরে তিনি।

চিনের সঙ্গে বিবাদে অনড় অবস্থান এবং সমাজমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করেছে। পূর্বসূরিদের সেকেলে রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে যাঁরা হতাশ ছিলেন, তাঁদের কাছে তাকাইচির সরাসরি বক্তব্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে।

কিন্তু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ৬৫ বছর বয়সি এই রাজনৈতিক শিষ্যার ক্ষমতার এক বছর পূর্তির মুহূর্তেই সামনে এসেছে একাধিক কঠিন পরীক্ষা। মন্ত্রিসভার প্রথম বড় কেলেঙ্কারি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, ভোগকর কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে। তার উপর কাজের ধরন, দলের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সংবাদমাধ্যমের প্রতি মনোভাব এবং অল্প ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ট্রাম্পকে সামলানো, ঘরে চাপ

আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-সম্পর্ক জাপানের বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেই সম্পর্ক মজবুত রাখতে তাকাইচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দু’জনের চার বার সাক্ষাৎ হয়েছে। মার্চে ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় পার্ল হারবার নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টার জবাবে মুখ খোলেননি তাকাইচি। তবে তাঁর শরীরী ভাষায় অস্বস্তি স্পষ্ট হয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

সেই অস্বস্তি সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। এমনকি দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কে এক ‘স্বর্ণযুগ’ শুরুর কথাও ঘোষণা করেছিলেন।

দেশের অভ্যন্তরে অবশ্য পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। চলতি মাসে কৃষিমন্ত্রী কাজুও ইয়ানার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রথম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হয়েছে তাঁকে। যে সব পুর এলাকা তাঁকে সমর্থন করেনি, সেখানকার রাস্তার জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন ইয়ানা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে চাপ বাড়লেও প্রথমে মন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তাকাইচি। পরে মন্তব্যটি সত্যি হয়ে থাকলে তা “সত্যি বলতে, একেবারেই ফালতু” বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। শেষ পর্যন্ত ১৪ অক্টোবর তাকাইচি সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন ইয়ানা।

রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী সংস্থা জাপান ফোরসাইটের প্রতিষ্ঠাতা টোবিয়াস হ্যারিসের মতে, এই কেলেঙ্কারির প্রভাব আগামী জনমত সমীক্ষায় পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য, বিতর্ক বাড়তে থাকার সময় প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ইয়ানার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিংহাসন, নিষেধাজ্ঞা, ওকিনাওয়া

তাকাইচির সামনে আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর সমর্থিত কিছু সংশোধন জাপানের সিংহাসনে শুধু পুরুষদের উত্তরাধিকারী হওয়ার নিয়ম বদলানোর সম্ভাবনাকে কার্যত আটকে দিচ্ছে। অথচ সম্রাজ্ঞীকে সিংহাসনে দেখার পক্ষে জনসাধারণের মধ্যে যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে বলে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জাপানি প্রধান তোমোকো আকানের প্রতিও তাকাইচির সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতটি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার নিশানা হয়েছে। অন্য দিকে, ওকিনাওয়ায় এক স্থানীয় মহিলাকে খুন ও লুটপাটের সন্দেহে চলতি মাসে এক মার্কিন মেরিন গ্রেফতার হওয়ার পর সেখানে বাড়তে থাকা ক্ষোভও সামলাতে হচ্ছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে।

শিলা স্মিথের কথায়, “মন্ত্রিসভার সদস্যদের ভুলভ্রান্তি সামলাতে হবে তাঁকে। জোটসঙ্গীকে সন্তুষ্ট রাখার বাধা পেরোতে হবে। আর সবচেয়ে জরুরি হল, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের যে উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে, তার মোকাবিলা করা।”

কর কমবে, টাকা আসবে কোথা থেকে?

জাপানের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে তাকাইচির অন্যতম বড় প্রস্তাব হল, দু’বছরের জন্য খাদ্য ও পানীয়ের উপর ভোগকর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা। আর্থিক সমস্যায় থাকা পরিবারগুলিকে নগদ সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

কিন্তু এই পরিকল্পনার অর্থ আসবে কোথা থেকে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন করে ঋণ না নিয়েই এই পদক্ষেপ করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন তাকাইচি। তবে অর্থের সংস্থান নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জি৭ গোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে জাপানের সরকারি ঋণের বোঝা ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ।

ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে সরকারি অর্থভাণ্ডারের উপর আরও চাপ পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাংবাদিকদের বদলে সমাজমাধ্যম

তাকাইচির সমর্থকেরা তাঁর স্পষ্টবক্তা ভাবমূর্তিতে মুগ্ধ। কিন্তু সেই ধরনই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া এবং স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত করার অভিযোগও ডেকে এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাধারণত একান্ত সাক্ষাৎকার খুব কমই দেন। নীতি ব্যাখ্যা করতে তাঁর পছন্দ সমাজমাধ্যম এক্সে বিস্তারিত পোস্ট করা। ক্ষমতায় আসার প্রথম পাঁচ মাসে তিনি ৩৪টি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। তুলনায়, একই সময়ের মধ্যে তাঁর দুই পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবা ও ফুমিও কিশিদা যথাক্রমে ৫৭টি ও ৯০টি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। কিয়োদো সংবাদ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ওই পাঁচ মাসে এক্সে তাকাইচির পোস্টের সংখ্যা ছিল ৩৭০।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ জাপানি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকের দাবি, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে নেপথ্যে আলোচনার যে প্রচলিত রীতি ছিল, তা এখন আর বজায় নেই। তাঁর কথায়, “প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতি তিনি আক্রমণাত্মক। আমার মনে হয়, এটা তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে শিখেছেন।”

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভোগকর কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইয়ানার বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি—দু’টিই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিতে পারে। যাঁরা তাকাইচিকে প্রধানমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিলেন, সেই দলের সহকর্মীদের মধ্যেই অসন্তোষ বাড়লে তাঁর অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

রাজনীতির আড্ডায় অনুপস্থিত

জাপানের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক নৈশভোজ ও আড্ডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্বসূরিরা অভিজাত ‘রিয়োতেই’ রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করতেন। তাকাইচি বরং সন্ধেবেলা স্বামী তাকু ইয়ামামোতোর সঙ্গে বাড়িতে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। সংসদের নিম্নকক্ষের এই প্রাক্তন সদস্য গত বছর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মাইনিচি শিমবুনের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় আসার প্রথম ছ’মাসে সহকর্মীদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার আসরে মাত্র পাঁচ বার বসেছেন তাকাইচি। একই সময়কালে শিনজো আবে এমন ৫০টি আয়োজন করেছিলেন, আর কিশিদা করেছিলেন ৩৫টি—যার কয়েকটি কোভিড অতিমারির সময়েও হয়েছিল।

সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকটির কথায়, “জাপানের প্রধানমন্ত্রীদের সন্ধেবেলা অন্য রাজনীতিকদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নীতি নির্ধারণ করা খুবই স্বাভাবিক রীতি।”

তাকাইচির ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ধরনও আলোচনায় এসেছে। ভোটারদের জন্য “কাজ, কাজ, শুধু কাজ” করার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, রাতে মাত্র দু’থেকে চার ঘণ্টা ঘুমোন এবং কখনও কখনও ভোর হওয়ার আগেই সহকারীদের ডেকে পাঠান। সিগারেট খেতে ভালবাসেন তিনি। তাঁর পছন্দের ব্যান্ড ডিপ পার্পলের ‘স্মোক অন দ্য ওয়াটার’।

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তাবিধির কারণে তাঁর নিজের কেনাকাটা করতে বেরোনোর সুযোগ সীমিত। তবে স্বামী একটি জাপানি মাসিক পত্রিকাকে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে পিৎজা অর্ডার করার অনুমতি পান তিনি। বাড়িতে মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাওয়ার তৈরি খাবার এবং ইনস্ট্যান্ট নুডলসও মজুত থাকে।

এই সপ্তাহে সাংসদদের তাকাইচি বলেছেন, “সকালে আমি স্নান করি, প্রাতরাশ তৈরি করি, তার পর বাসন ধুই। তার সঙ্গে মেকআপ করার ব্যাপারও তো আছে। আমার মনে হয়, এই সব কাজে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় আমাকে আরও তিন-চার ঘণ্টা বেশি সময় দিতে হচ্ছে।”

আবের ইংরেজি জীবনীকার হ্যারিসের মতে, জাপানের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী আবে এবং তাঁর রাজনৈতিক শিষ্যা তাকাইচির কাজের ধরনের মধ্যে “উল্লেখযোগ্য পার্থক্য” রয়েছে।

হ্যারিসের বক্তব্য, “তাকাইচি স্পষ্টতই অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন। আমলাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বিষয়গুলি বুঝে নিতে চাইছেন না। রাজনৈতিক মিত্র ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার আসরেও কম বসছেন। সাধারণ ভাবে তিনি নিজের বিচারবুদ্ধির উপরেই নির্ভর করছেন। সম্ভবত তাঁর পূর্বসূরিরা যত রকমের মতামত শুনতেন, তিনি ততটা শুনছেন না।”

জনপ্রিয়তা কি ঢাল হয়ে থাকবে?

তাকাইচির সরাসরি কথা বলার ধরন এখনও বহু ভোটারের কাছে আকর্ষণীয়। শিলা স্মিথের মতে, কঠিন নীতিগত প্রশ্নেও “স্পষ্ট, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বাদ দিয়ে সরাসরি উত্তর দেওয়ার মানসিকতা” তাঁকে সমর্থন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং চিন ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোও তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

স্মিথের মতে, “আমার ধারণা, তাঁর উত্তরসূরিদেরও নিজেদের বদলাতে হবে এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে।”

তবে এলডিপির শীর্ষস্তরের নেতারা যত দিন ভোটারদের কাছে তাঁর বার্তার গ্রহণযোগ্যতা দেখতে পাবেন, তত দিন তাঁকে সমর্থন দিয়ে যেতে পারেন। ব্যক্তিগত আচরণের কিছু দিক তাঁদের অস্বস্তিতে ফেললেও—যেমন জো বাইডেনকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় যোগ দেওয়া কিংবা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির উদ্দেশে গান গাওয়া—তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা আপাতত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

কিন্তু জনপ্রিয়তা আর দলের ভিতরে রাজনৈতিক সমর্থন এক জিনিস নয়। হ্যারিসের কথায়, “নিজের পরামর্শেই আস্থা রাখেন তিনি, অনুগতদের কোনও শক্তিশালী দল গড়ে তোলেন না… এলডিপির ভিতরের সামাজিক মেলামেশার খেলাটাও খেলেন না—এমনই সুনাম রয়েছে তাঁর। এতে ভোটারদের কাছে তিনি প্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধু খুব কম থাকার ঝুঁকিও রয়েছে।”

ক্ষমতার প্রথম বছরে তাকাইচি প্রমাণ করেছেন, জাপানের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে তিনি সক্ষম। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ, মন্ত্রিসভার বিতর্ক এবং দলের ভিতরে দূরত্ব—এই তিনটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সেই জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।