জর্ডানের ঐতিহাসিক কারাক (Karak) শহরের একটি বিখ্যাত গির্জায় ঘটে যাওয়া বর্বর সন্ত্রাসী হামলার কঠোর ভাষায় তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরও একবার দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো রূপ বা যেকোনো উদ্দেশ্যে চালানো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ঘোষিত নীতি হলো 'জিরো টলারেন্স' বা শূন্য সহনশীলতা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, কোনো ধর্মানুষ্ঠান বা প্রার্থনাস্থলে সাধারণ মানুষের ওপর এমন কাপুরুষোচিত আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই দুঃসময়ে ভারত সরকার জর্ডান হাশেমাইট সাম্রাজ্যের সরকার ও সাধারণ মানুষের পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে, হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্পষ্ট বার্তা
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে ভারত বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জর্ডানের মতো অন্যতম কৌশলগত বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় আঘাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নয়াদিল্লি। পররাষ্ট্র মন্ত্রক পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ধর্ম, আদর্শ বা রাজনৈতিক কারণ যাই হোক না কেন—সন্ত্রাসবাদকে কোনো অজুহাতেই বৈধতা দেওয়া যায় না।
ভারত বিশ্বাস করে, উগ্রবাদ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্তর্জাতিক হুমকির মোকাবিলা করতে বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রকে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জর্ডানের কারাক শহরে উপাসনালয়ে এই আক্রমণের পর ভারতের এই কড়া প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সন্ত্রাসবিরোধী সংগ্রামে দিল্লির দৃঢ় ও আপসহীন নীতিকেই পুনরায় তুলে ধরল।