বাংলাস্ফিয়ার: ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা ১,০০০ কোটি ডলারের মানহানির মামলায় তাঁকে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার জন্য ফ্লোরিডার এক ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিবিসি।
মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, শুক্রবার ট্রাম্পের জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে বিবিসি এবং তাঁর আইনজীবী দল একমত হয়েছিল। বিচারককে বিবিসির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কোথায় সেই জবানবন্দি নেওয়া হবে, তা ট্রাম্পের আইনজীবীদের কাছ থেকে জানার জন্য তাঁরা কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসির কৌঁসুলিদের জানান, “জাতীয় গুরুত্বের অন্যান্য বিষয়ের কারণে প্রেসিডেন্ট ১৬ অক্টোবর জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আর সময় দিতে পারবেন না।”
ট্রাম্পের আইনজীবীরা দ্রুত একটি বিকল্প দিন জানাবেন বললেও তা জানাননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রস্তাব দেন, জানুয়ারির দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট সময় দিতে পারবেন। কিন্তু তত দিনে মামলার ‘ডিসকভারি’ পর্ব—অর্থাৎ বিচারপূর্ব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও আদানপ্রদানের পর্যায়—শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে যাবে। বিবিসির আইনজীবীরা জবানবন্দি নেওয়ার স্থান গোপন রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আইনজীবী দলকে জবানবন্দির দিনক্ষণ নির্ধারণের নির্দেশ দিতে বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির আবেদনে বলা হয়েছে, “বাদী নিজেই এই মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তার মধ্য দিয়ে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার দায়বদ্ধতাগুলিও মেনে নিয়েছেন। তাই বিবিসি আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, বাদীকে তাঁর জবানবন্দির একটি দিন নিশ্চিত করতে, নিরাপদে কোথায় সেই জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর কী কী ব্যবস্থার প্রয়োজন, তা বিবিসিকে জানাতে এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের মৌলিক বিধি অনুযায়ী জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হোক।”
ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিকে আইচ লেট ২২ অক্টোবর তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সেই শুনানিতে জবানবন্দির বিষয়টিও উঠতে পারে।
মঙ্গলবারের আবেদনে বিবিসির আইনজীবীরা লিখেছেন, “তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর্ব শুরু হওয়ার প্রায় আট মাস কেটে গিয়েছে। বিবিসির সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এই পর্ব শেষ হতে আর মাত্র দু’মাস বাকি। অথচ বিবিসি এখনও এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির—অর্থাৎ স্বয়ং বাদীর—জবানবন্দি নিতে পারেনি। এমনকি তাঁর জবানবন্দি নেওয়ার কোনও দিনক্ষণও পাওয়া যায়নি।”
সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ট্রাম্পের। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবিসির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ‘প্যানোরামা’র একটি তথ্যচিত্র সম্পাদনার ক্ষেত্রে বিবিসি ফ্লোরিডার অন্যায্য ও প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করেছে। ওই তথ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি একটি সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তৃতার বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ভুলের জন্য বিবিসি ক্ষমা চেয়েছে।
ট্রাম্পের আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, “এক সময়ে সম্মানিত এবং এখন কলঙ্কিত বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে, বিদ্বেষপ্রসূত ও প্রতারণামূলক উপায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তৃতা বিকৃত করে তাঁর মানহানি করেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের এক নির্লজ্জ চেষ্টা ছিল এটি।”
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিবিসি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দর্শকদের বিভ্রান্ত করে আসছে। এ সবই নিজেদের বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মসূচির স্বার্থে। অন্যান্য ভুয়ো খবর পরিবেশনকারী মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে তাদের অন্যায় কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করেছেন, ঠিক সেভাবেই তাঁর এই জোরালো মামলা বিবিসিকে মানহানি এবং নির্বাচনে বেপরোয়া হস্তক্ষেপের জন্য জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাচ্ছে।”