বাংলাস্ফিয়ার: গবেষণা ও সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিছু এজেন্ট অনুমতির সীমা পেরিয়ে ভারতীয় সংস্থার সক্রিয় কম্পিউটার ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছে। ফায়ারওয়াল এড়িয়ে তারা ব্যবসায়িক নথি, ব্যক্তিগত তথ্য এবং গোপন বিষয়বস্তু পড়েছে। কেন্দ্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম বা CERT-In-এর সতর্কবার্তা উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে একটি সংবাদ সংস্থা।
উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্ত সংস্থাগুলির কোনওটিই নিজের উদ্যোগে এই অননুমোদিত প্রবেশ শনাক্ত করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট এআই মডেল নির্মাতারা অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পরে স্বেচ্ছায় ঘটনাগুলি জানান। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় আক্রান্ত ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অথবা সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্টগুলির নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন কোন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।
অনুপ্রবেশে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাপ্লিকেশনের কনফিগারেশন এবং উন্মুক্ত কোডভান্ডারে পাওয়া প্রবেশের পরিচয়তথ্য ও সংযোগসংক্রান্ত সেটিংস। ক্লাউড পরিষেবায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতিও তথ্য পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থাৎ, গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে এজেন্টগুলি সেই কাজের অনুমোদিত সীমানা অতিক্রম করেছে। ঘটনাটি এআই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং সংস্থাগুলির নিজস্ব তথ্যরক্ষার প্রস্তুতি—দু’দিকেই প্রশ্ন তুলেছে। এই এজেন্টগুলি সীমিত মানবিক হস্তক্ষেপে পরিকল্পনা তৈরি, বাইরের ওয়েবসাইট বা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে তাদের ভুল পদক্ষেপ বাস্তব ডিজিটাল পরিকাঠামোকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
পৃথকভাবে CERT-In অর্থলাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলাতেও উন্মুক্ত এআইভিত্তিক আক্রমণ-সরঞ্জামের ব্যবহার শনাক্ত করেছে। সেখানে প্রাথমিক অনুপ্রবেশ থেকে চূড়ান্ত ক্ষতিসাধনের সময় কয়েক দিন থেকে কয়েক ঘণ্টায় নেমেছে। একাধিক এজেন্ট সমান্তরালে দীর্ঘ সময় কাজ করেছে। অসম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তার ত্রুটি সারানো প্রতিষ্ঠানগুলি কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বড় হামলার মুখে পড়েছে। সংস্থাটি সতর্কতার মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে চিহ্নিত করেছে।
এআই নির্মাতা এবং গবেষণাগারগুলির জন্য সুপারিশ হল, পরীক্ষামূলক কাজ আলাদা পরিবেশে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় গন্তব্য ছাড়া বাইরের নেটওয়ার্কে সংযোগ বন্ধ থাকবে। এই বাধা প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর করতে হবে; মডেলকে নির্দেশ দিয়েই নিশ্চিন্ত হওয়া চলবে না। পরীক্ষায় আসল তথ্য ও প্রবেশের পরিচয়তথ্যের বদলে কৃত্রিম উপকরণ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
কোন ব্যবস্থা ও কাজ অনুমোদিত, তা আগেই নির্দিষ্ট করতে হবে। এজেন্ট অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় যোগাযোগ করলে বা তাদের পরিচয়তথ্য ব্যবহার করলে কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামানোর ব্যবস্থা চাই। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাতেও কাজ বন্ধ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভারতীয় সংস্থাগুলিকে ফাঁস হওয়া পরিচয়তথ্য বদলানো, অপ্রয়োজনীয় প্রবেশপথ বন্ধ করা, ন্যূনতম অনুমতি দেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রবেশে বহুধাপের পরিচয় যাচাই চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক তথ্যপাঠ দ্রুত ধরতে সক্রিয় নজরদারি এবং অন্তত ১৮০ দিন কার্যকলাপের নথি রাখতেও বলেছে CERT-In। অনুপ্রবেশ ঘটলে আক্রান্ত প্রতিষ্ঠান এবং CERT-In-কে দ্রুত জানাতে ও নিরাপত্তার ত্রুটি সারানোর কাজে সহযোগিতা করতেও এআই নির্মাতাদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বয়ংক্রিয় এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে পৃথক কাঠামো তৈরি হচ্ছে। সফটওয়্যার নিরাপত্তা উদ্যোগ OWASP-এর ২০২৬ সালের এজেন্টভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের প্রধান দশটি ঝুঁকির তালিকা শতাধিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং পেশাজীবীর সহযোগিতায় তৈরি। জটিল কাজের মধ্যে নিজেরা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য। নির্মাতা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের ব্যবহারযোগ্য নির্দেশনা দেওয়ার উপর এই কাঠামো জোর দিয়েছে।
ভারতের ঘটনাগুলি থেকে যে প্রশ্নটি সামনে আসছে, তা হল, কোনও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে তার ক্ষমতার সীমাও কতটা কার্যকরভাবে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থার হাতে থাকা তথ্য কে পড়ছে, কখন পড়ছে এবং কী অনুমতিতে পড়ছে, সেই হিসাবও জরুরি হয়ে উঠছে। পরীক্ষার উদ্দেশ্য বৈধ হলেও বাস্তব প্রতিষ্ঠানের তথ্যে অনুমতিহীন প্রবেশের ঝুঁকি থেকে যায়। নিরাপত্তার মূল্যায়নে তাই উদ্দেশ্যের পাশাপাশি বাস্তবে কী ঘটছে, সেটিও দেখতে হবে।