নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানো রোমাঞ্চকর ইনিংস খেলার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের উদীয়মান তারকা তিলক ভার্মা (Tilak Varma)। প্রতিপক্ষের দেওয়া টার্গেট তাড়া করতে নেমে পর পর উইকেট হারিয়ে ভারত যখন চরম বিপাকে, ঠিক সেই সময় শেষ পর্যন্ত ক্রিজে লড়ে গিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন হায়দরাবাদের এই তরুণ ব্যাটার। তবে কেবল ব্যাট হাতেই নয়, এ দিনের ম্যাচে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বিরল নজির গড়েছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের বোলিং ইনিংসের প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করেন তিলক। অর্শদীপ সিংয়ের সুইংয়ে ক্যাচ তুলে দেওয়া কিউয়ি ওপেনার টিম সাইফার্ট এবং পরবর্তীতে অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ভয়ানক হয়ে ওঠার আগেই ড্যারিল মিচেলের ক্যাচ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তালুবন্দি করেন তিনি।

প্রথম তিন ওভারে নেওয়া এই জোড়া ক্যাচের সুবাদেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড এখন তিলক ভার্মার দখলে। ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর মোট ক্যাচের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২৬-এ। এর আগে এক বছরে সর্বাধিক ২৫টি ক্যাচ ধরে এই বিশ্বরেকর্ডের শিখরে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ক্রিকেটার ড্যানিলসন হাওয়ে। তাঁকেও টপকে ফিল্ডিংয়ের নিরিখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিহাস তৈরি করলেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার।

অন্যদিকে, এ দিনের ম্যাচে ভারতীয় একাদশে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রদবদল দেখা যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় দলে অভিষেক হয় ১৫ বছর বয়সী অলৌকিক ক্রিকেট প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর। এত কম বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে কিউয়ি সফরে যথেষ্ট উত্তেজনা ও কৌতূহল থাকলেও, নিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে কাঙ্ক্ষিত রান পাননি তিনি।

তবে টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ার পর মাঝমাঠে তিলক ভার্মার চরম দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকার ইতিবাচক মানসিকতাই ভারতকে হারের মুখ থেকে জয়ের নায়ক করে তোলে। অধিনায়ক ও প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের পরামর্শ মেনে তিলকের এই ধীরস্থির অথচ আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স ভারতকে জয়ের সরণিতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় ফিল্ডিংয়ের মানকে এক নতুন উচ্চতায় বসিয়ে দিল।