বাংলাস্ফিয়ারঃ নামী সাহিত্য পুরস্কারের বিজয়ীদের লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কয়েক মাসের বিতর্কের মধ্যেই চালু হল ‘প্রি পাস্কাল দ্য লিতেরাত্যুর আইএ’। বৃহৎ ভাষা মডেলের সাহায্যে লেখা কথাসাহিত্যকে স্বীকৃতি দেবে এই পুরস্কার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা বইয়ের জন্য এ সপ্তাহে একটি নতুন পুরস্কার চালু হয়েছে।
‘প্রি পাস্কাল দ্য লিতেরাত্যুর আইএ’ পুরস্কারের জন্য এআই সরঞ্জামের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়ী পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আয়োজকেরা।
প্রতিযোগীদের ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার শব্দের একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে জানাতে হবে, লেখাটি তৈরি করতে কোন এআই মডেল এবং কী নির্দেশ বা ‘প্রম্পট’ ব্যবহার করা হয়েছে। চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি ও লামা-সহ প্রধান সব ভাষা মডেল ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। তবে লেখা জমা দিতে হবে ফরাসি ভাষায়।
ফরাসি বহুশাস্ত্রবিশারদ ব্লেজ পাস্কালের নামে এই পুরস্কারের নাম রাখা হয়েছে। প্রথম দিকের যান্ত্রিক গণনাযন্ত্রগুলির একটি উদ্ভাবনে তাঁর ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি তিনি ধর্মতত্ত্ববিষয়ক রচনাও লিখেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে ‘পঁসে’। বইটির ‘দার্শনিক গভীরতা ও সাহিত্যিক সৌন্দর্য’-এর প্রশংসা করেছিলেন পোপ ফ্রান্সিস।
প্রতিযোগিতার নিয়ম ও শর্তে কথাসাহিত্য জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে পুরস্কারের ঘোষণায় এ-ও বলা হয়েছে, জমা দেওয়া লেখাগুলি যেন মানবজাতিকে বিপন্ন করে তুলছে এমন কোনও নৈতিক, সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে। এই পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ রডরিগেজ, আলবাঁ সারভিয়াঁ এবং জিল মঁত্রে। তিনজনই প্রযুক্তি-উদ্যোক্তা।
রডরিগেজ হলেন সংস্থার সংযুক্তিকরণ ও অধিগ্রহণ বিষয়ে পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভোল্টার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তাঁকে ‘ইউরোপের ক্রিপ্টো ও ব্লকচেন শিল্পের একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সারভিয়াঁ ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উদ্যোক্তা এবং এলজিবিটিকিউ-প্লাস পত্রিকা ‘তেত্যু’-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান। অন্যদিকে, মঁত্রে একজন প্রাক্তন সরকারি আমলা। দর্শনে পিএইচডি করেছেন তিনি; পড়ান হার্ভার্ড এবং প্যারিস ১ পঁতেওঁ-সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনলাইনে ভোটদানের মঞ্চ ‘ইলেক্টিস’-এরও অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি।
এ বছর একাধিক সাহিত্য পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত এবং বিজয়ী লেখকদের রচনায় এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে রয়েছে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার, কেইন পুরস্কার এবং ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মান প্রি গঁকুর। সেই বিতর্কের আবহেই চালু হল প্রি পাস্কাল।
মঙ্গলবার থেকে প্রি পাস্কালের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রতিযোগীরা পুরস্কারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেখা জমা দিতে পারবেন। নভেম্বরের শেষে আবেদন গ্রহণ বন্ধ হওয়ার কথা। প্রথমে ১০টি লেখার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। তার পর ডিসেম্বরের গোড়ায় বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
বিচারকমণ্ডলীতে থাকবেন লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও প্রকাশকদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া পাঁচ বা ছয়জন। নভেম্বরের গোড়ায় তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে।