বাংলাস্ফিয়ার: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালীঘাটের বাড়ির বাইরে ছুরি নিয়ে আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগ খারিজ করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর তিনি জানান, অভিযোগটির কোনও সারবত্তা বা সত্যতা নেই। পুলিশের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মহিলা মমতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন; উপস্থিত সমর্থকেরা তাঁর আচরণকে অন্যভাবে বুঝেছিলেন। তবে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কমিশনার জানিয়েছেন।
ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার। দিল্লি থেকে ফেরার পরে নিজের বাড়ির কাছেই কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে বেরিয়েছিলেন মমতা। সেই সময়ে এক মহিলা তাঁর দিকে এগিয়ে যান। মমতাপন্থী তৃণমূলের অভিযোগ, মহিলা গালিগালাজ করেন এবং হামলার চেষ্টা চালান। নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় মানুষ তাঁকে আটকে দেন বলে প্রাথমিক বিবরণে জানানো হয়েছিল। পরে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।
দোলার অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। মমতার সঙ্গে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন নেতা ছিলেন। দোলাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, ওই মহিলা মমতাকে ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে আচমকা আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। মহিলাকে নেশাগ্রস্ত বলে মনে হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। দোলার আরও অভিযোগ, মহিলার কাছে ছুরি ছিল এবং তিনি রাস্তায় বসে মমতাকে গালিগালাজ করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দোলা। তাঁর বক্তব্য, কাছেই থাকা দুই পুলিশকর্মীকে বিষয়টি জানিয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু তাঁরা নিজেদের রাজ্য পুলিশের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে জানান, এলাকাটি কলকাতা পুলিশের আওতাধীন। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁরা এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ সাংসদের। ঘটনার পরেই ইমেলের মাধ্যমে পুলিশের কাছে অভিযোগ পাঠান দোলা। এই বিবরণ অবশ্য অভিযোগকারীর বক্তব্য; পুলিশ কমিশনার হামলার দাবিটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে নন্দ জানান, মহিলার উদ্দেশ্য ছিল মমতার সঙ্গে দেখা করা। মমতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে; তাঁর বাবাও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে চেনেন। কমিশনারের ব্যাখ্যা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা মহিলাকে আটক করার পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। সমর্থকেরা যা হামলা হিসেবে দেখেছিলেন, পুলিশ সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। মহিলাকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করলেও ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগকে সমর্থন করেননি তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মহিলা একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর বয়স ৩৮ বছর এবং বাড়ি নিউ আলিপুরের এস এন রায় রোডে। পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে তিনি ওয়েস্ট পোর্ট থানায় কর্মরত ছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর থেকে কাজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর অতীত, দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মমতার নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত একজনের ক্ষেত্রে যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী। দোলার অভিযোগেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই প্রতিক্রিয়াগুলি এসেছে হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে; কমিশনারের বক্তব্যে সেই অভিযোগের ভিত্তিই অস্বীকার করা হয়েছে।
ফলে ঘটনাটির দুটি পৃথক বিবরণ সামনে রয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্যে এটি ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং নিরাপত্তার ব্যর্থতা। পুলিশের বক্তব্যে, পরিচিত এক মহিলার দেখা করতে আসার ঘটনাকে হামলা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রেফতারের নির্দিষ্ট ধারা কিংবা ছুরি উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। তাই গ্রেফতারের খবরকে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য বলা যায় না। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল, মহিলা গ্রেফতার হয়েছেন এবং কলকাতা পুলিশের প্রধান হামলার অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্যকে দোলা সেনের অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ছিল, এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা যায় না। কমিশনারের উদ্ধৃত মন্তব্যে অভিযোগকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।