বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লির সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে পরিচিত নয়ডায় ফের বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে নয়ডার ১২৬ নম্বর সেক্টরের একটি নির্দিষ্ট চত্বরে হঠাৎই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। এই আকস্মিক ঘটনায় সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছুটির মেজাজে থাকা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় কর্মীরা আচমকা এই বিপদের মুখে পড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।

ঘটনাস্থল সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর নয়ডার ১২৬ নম্বর সেক্টরের রায়পুর সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত পাঁচটি অস্থায়ী দোকানে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। ঘিঞ্জি বা জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই অস্থায়ী দোকানগুলিতে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়ানক আকার ধারণ করে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশেপাশের এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করা হয়। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দমকলের মোট ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়।

দমকল কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। একটানা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে এক ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন উদ্ধারকারীরা। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ (The Indian Express)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুন নেভানোর এবং তল্লাশি চালানোর সময় দমকল ও পুলিশ কর্মীরা এক ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে বা শ্বাসরোধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এবং তিনি ওই দোকানগুলির মালিক কি না, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

নয়ডার মতো একটি জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ কিংবা বাণিজ্যিক এলাকায় এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফের একবার সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। কীভাবে প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে এমন দুর্ঘটনা ঘটে গেল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দানা বাঁধছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বরিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুরো এলাকাটি কর্ডন করে রাখা হয়েছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুলিশি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঠিক কী থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি প্রশাসন। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা মানুষের কোনো অসাবধানতার জেরে এই অগ্নিকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছেন ফরেন্সিক ও দমকল বিশেষজ্ঞরা। দমকলের প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখলে তবেই আসল কারণ স্পষ্ট হতে পারে।