বাংলাস্ফিয়ার: শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় শুরু হওয়া প্রতিরোধমূলক আইনি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আইসা সভাপতি নেহা বোরার আবেদন খারিজ করল দিল্লি হাই কোর্ট। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ জানান, এই পর্যায়ে বিশেষ এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কারণ দর্শানোর নোটিসে হস্তক্ষেপের ভিত্তি নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সতর্ক করা সত্ত্বেও নেহা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, এই পর্যবেক্ষণ কেবল নোটিস জারির পর্যায়ে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ। ঘটনার চূড়ান্ত বিচার করা হয়নি। নেহাকে ব্যক্তিগত বন্ড দিতে হবে কি না, সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ স্বাধীনভাবে বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ম্যাজিস্ট্রেটকে। পরবর্তী পর্যায়ে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও তাঁর থাকছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ১৬ অক্টোবর। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চলতে থাকা প্রতিবাদের মধ্যে দিল্লির মান্ডি হাউস থেকে নেহাকে আটক করে পুলিশ। তিনি কনট প্লেসে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পরদিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই বিশেষ এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ কুমার মিনা নোটিস জারি করেন।
নোটিসে জানতে চাওয়া হয়, অনুসন্ধান চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা হিসেবে কেন তাঁকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের একজন জামিনদার দিতে বলা হবে না। পুলিশের অভিযোগ ছিল, মান্ডি হাউসে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করে নেহা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিলেন এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় বারবার বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
পুলিশ আরও অভিযোগ করে, অনুমতি ছাড়া কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েত এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। এই কার্যকলাপ থেকে ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। নেহার আইনজীবী শুনানিতে পাল্টা যুক্তি দেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য নাগরিকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নেহার আবেদনে নোটিসটিকে অস্পষ্ট, তথ্যগতভাবে ভুল এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার সপক্ষে নির্দিষ্ট উপাদানবিহীন বলে অভিযোগ করা হয়। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করতেই প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশ যে রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই নথি দেওয়া হয়নি। কোন তথ্য থেকে ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা না জানলে কার্যকরভাবে জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। হাই কোর্ট নেহাকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত উপাদান সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানির পর শুক্রবার আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মান্ডি হাউস নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল না, আবেদনকারীর এই যুক্তিও গ্রহণ করেনি আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, ২৪ আগস্টের সংশ্লিষ্ট আদেশে বারাখাম্বা রোড ও তিলক মার্গ থানার আওতাধীন এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল; তার মধ্যে মান্ডি হাউসও পড়ে। আদালতের মতে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে থাকা পুলিশি রিপোর্ট, সাধারণ ডায়েরির নথি ও সাক্ষীদের বক্তব্য প্রক্রিয়া শুরুর জন্য যথেষ্ট ছিল।
আদালত ব্যাখ্যা করেছে, এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে পূর্ণাঙ্গ বিচারের মতো অনুসন্ধান করতে হয় না। তবে পুলিশের আশঙ্কার ভিত্তিতে প্রক্রিয়া শুরু করা এবং শেষ পর্যন্ত বন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া পৃথক সিদ্ধান্ত। প্রতিটি পর্যায়ে আইনে নির্ধারিত শর্ত ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার বিধান মেনে চলতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের মধু লিমায়ে মামলাসহ প্রাসঙ্গিক রায়গুলিতে নির্ধারিত সুরক্ষা পরবর্তী শুনানিতেও বজায় রাখতে বলেছে হাই কোর্ট। ফলে নেহার আবেদন খারিজ হলেও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর আপত্তি জানানোর অধিকার অক্ষুণ্ণ রয়েছে। নোটিস বহাল রাখার এই সিদ্ধান্তকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত অনুমোদন হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।