বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করলেন সিজেপি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ঠেকাতে সরকারই যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ফোনে প্রমাণ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমান থেকেই আটক করা হয়েছিল সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকেকে। রবিবার সকালে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য, মুক্তির শর্ত হিসেবে তাঁদের এক বছরের জন্য ‘শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার’ মুচলেকা দিতে হয়েছে।
মুক্তির পর প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সাংবাদিক বৈঠকে রাঙ্কা অভিযোগ করেন, তাঁদের ফোন ২৪ ঘণ্টা ধরে পুলিশের কাছে রাখা হয়েছিল। এই সময়ে ফোনগুলি ক্লোন করা হয়েছে কি না, কিংবা সেগুলিতে কোনও কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রাঙ্কা পাল্টা অভিযোগ করেন, “আসলে শান্তিভঙ্গ করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহ।”
তাঁর দাবি, সপ্তাহান্তে প্রতিবাদ দমন এবং বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাঙ্কা বলেন, “গত দু’দিনে আমরা হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক হতে দেখেছি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে গতকাল আমাদের বিমান থেকেই আটক করা হয়েছে… এই লড়াই সবে শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের তৈরি করা এই লড়াই এখন যুদ্ধের মতো হয়ে উঠেছে।” মানুষকে তাঁদের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলেই বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই জায়গাকে কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা দুর্গে পরিণত করায় স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
দাসের কথায়, “মানুষ নির্ধারিত জায়গায় প্রতিবাদ করতে চান। সরকারের উচিত ছিল এগিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলা। এখানে ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। জায়গাটাকে দুর্গ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনারা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, আর মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।”
সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে রাঙ্কা বলেন, “আজ আমরা আবার প্রতিবাদ মিছিল করছি। পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
দুই নেতাই দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিজেপির সদস্যরা ওই গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করছেন।
এদিকে, দিল্লির ডিডিইউ মার্গে তরুণ পড়ুয়াদের মারধর এবং মহিলাদের ধাক্কা ও আঘাত করার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভাইরাল ভিডিয়োর ঘটনায় রবিবার চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা নিজেদের দক্ষিণপন্থী সংগঠন হিন্দু রক্ষা দলের সদস্য বলে দাবি করেছেন। ওই ভিডিয়োয় একদল ব্যক্তিকে পড়ুয়া ও মহিলাদের উপর হামলা চালাতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ।