বাংলাস্ফিয়ারঃ উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে দরকষাকষি শুরু হল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির। কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে ১৮০টি আসনের তালিকা দিয়েছে। অন্যদিকে, সপা সূত্রের দাবি, অখিলেশ যাদবের দল ৫০ থেকে ৮০টি আসন ছাড়তে আগ্রহী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল আসনের নাম নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জয়ের ক্ষমতার বিবরণও চাইছে সপা। কংগ্রেস এই দাবিকে অযৌক্তিক বলছে।
সপার যুক্তি, আসন ছেড়ে দেওয়ার পরে কংগ্রেস দুর্বল প্রার্থী দাঁড় করালে ক্ষতি হবে গোটা জোটের। তাই কোথায় কাকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানতে চায় তারা। কংগ্রেসের এক সাংসদের পাল্টা বক্তব্য, কোন কেন্দ্রে কে লড়বেন, সেই তালিকা শরিককে আগাম দেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আসন বণ্টনের পাশাপাশি প্রার্থী নির্বাচনের স্বাধীনতাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
এর আগে ১৩ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর বাড়ির অনুষ্ঠানে সপা সাংসদ রাজীব রাই প্রিয়ঙ্কার কাছে আসনের তালিকা চেয়েছিলেন। পরে প্রিয়ঙ্কা রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সেখানেই নমনীয় অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়। কংগ্রেস সূত্রে খবর, ১৯ অক্টোবর প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার বৈঠকে সংখ্যার চেয়ে জেতার সম্ভাবনাময় আসনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দলের একাংশ শেষ পর্যন্ত ৮০–৯০টি আসনে সমঝোতার সম্ভাবনাও দেখছে। আরও একটি জটিলতা রয়েছে: কংগ্রেসের চাওয়া প্রায় এক ডজন আসনে বর্তমানে সপার বিধায়ক আছেন। নিজেদের জেতা আসন ছাড়তে সপা নেতৃত্ব অনিচ্ছুক।
দরকষাকষির পটভূমিতে রয়েছে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী দুর্বলতা। ২০১৭ সালে সপার সঙ্গে জোট করেও ১১৪টি আসনে লড়ে মাত্র সাতটিতে জিতেছিল কংগ্রেস। ২০২২ সালে একা লড়ে জয় আসে দু’টি আসনে। এই অতীত ফলাফলের জন্যই বড় অংশের আসন ছাড়ার আগে কংগ্রেসের বাস্তব শক্তি যাচাই করতে চাইছে সপা। লোকসভার সাফল্য বিধানসভায় একইভাবে প্রতিফলিত হবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে। স্থানীয় প্রার্থী, সামাজিক সমীকরণ এবং বুথস্তরের সংগঠনের গুরুত্ব বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষভাবে সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস আসনগুলিকে নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আসনগুলিতে দল কম ছাড় দিতে চাইছে; অন্য কয়েকটি শ্রেণিতে আলোচনার সুযোগ বেশি। অর্থাৎ, চূড়ান্ত সমঝোতায় শুধু মোট আসনসংখ্যা নয়, কোন কোন কেন্দ্র পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাসের প্রধান ভিত্তি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। উত্তরপ্রদেশে সপা পেয়েছিল ৩৭টি আসন, কংগ্রেস ছ’টি; বিজেপি আটকে যায় ৩৩টিতে। পিটিআইকে কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, ওই ফল দেখিয়েছে একসঙ্গে লড়লে দুই দল প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্যে পারস্পরিক ছাড়ের প্রয়োজনও উঠে এসেছে। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমও গ্রহণযোগ্য সমঝোতার আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দেওয়া প্রাথমিক দাবির পরিসর ১৭৫ থেকে ২০০টি আসন; নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।
রাজ্য কংগ্রেসে নেতৃত্ব পরিবর্তনও এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। অজয় রায়ের জায়গায় আরাধনা মিশ্র মোনাকে দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে সপার সঙ্গে বোঝাপড়া সহজ করার ভাবনাও রয়েছে বলে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতার ধারণা। সপা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ককে তাঁরা ইতিবাচক মনে করছেন। যদিও এই পরিবর্তন আসন সমঝোতার নিশ্চয়তা দেয় না, আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তার ভূমিকা থাকতে পারে। গৌতম জানিয়েছেন, দুই দলের নেতারা বসে আসন বণ্টনের খুঁটিনাটি আলোচনা করবেন। তাঁর আশা, আগামী নির্বাচনে যৌথভাবে লড়াইয়ের পথই প্রশস্ত হবে।
এদিকে অখিলেশ প্রকাশ্যে আসনসংখ্যা নিয়ে জল্পনায় সিলমোহর দেননি। শুক্রবার তিনি বলেন, কেউ ১৭২, কেউ ১৬০, কেউ ১৫০ আসনের কথা বললেও প্রকৃত অবস্থা দলীয় নেতৃত্বই জানেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস, সপা এবং ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করাই লক্ষ্য; বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জোট এগোবে। ফলে ৮০ আসনকে ঘোষিত চূড়ান্ত সমঝোতা বলা যাচ্ছে না। দরকষাকষি চলছে, আর উভয় পক্ষের প্রকাশ্য অবস্থান এখনও জোট বজায় রাখার পক্ষে।