বাংলাস্ফিয়ার: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন ও ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কুমিল্লা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহসান উদ্দিন টুটুলও রয়েছেন, যিনি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাকি গ্রেফতারকৃতরাও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবা চলাকালীন কুমিল্লার ব্যস্ততম নগরীর চকবাজার সংলগ্ন নুরপুর-তেলিকোনা সড়কে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়। আকস্মিক এই মিছিলের একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ব্যানার হাতে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একদল তরুণ ও যুবক রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের কয়েকজনের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল এবং হাতে লাঠি নিয়ে তাঁরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট স্থায়ী হয়েই সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু করে সারা রাত ধরে কুমিল্লার নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে সাঁড়াশি অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশের যৌথ দল। দীর্ঘ এই অভিযানে একে একে ১৮ জনকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ধরনের উসকানিমূলক মিছিল করা হয়েছিল। ভিডিও দেখে মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যান্যদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। তাদের পাকড়াও করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ছাত্রলীগের এই ঝটিকা মিছিল ও ব্যাপক গ্রেফতারের জেরে কুমিল্লা শহরজুড়ে থমথমে ও কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন এখন গোটা এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।